যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক

কাজ শুরু করছেন বিনিয়োগকারীরা

যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যে ১২টি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে। তবে মে মাসে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে আন্তর্জাতিক মানের একটি আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। চলতি বছরের জুনের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অধীন ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কম্পিউটারের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, কল সেন্টার ও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট—এ চারটি ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
গত সোমবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ১২ একর জমির ওপর ১৫ তলার একটি আইটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি তলায়
১৪ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। কর্মীদের থাকার জন্য পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে ১২ তলাবিশিষ্ট আবাসন ভবন। খাবার ও বিনোদনের জন্য চারতলা বিশিষ্ট একটি ক্যানটিন ও থিয়েটার হল নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নকশা অনুযায়ী, পার্কে গড়ে তোলা হচ্ছে সবুজ বেষ্টনী। ছয় একর সীমানার একটি পুকুরের চারপাশে পায়ে হাঁটা পথ ও বসার ব্যবস্থা রাখা আছে।
ভবনের নকশা ও তদারকের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মোরশেদুল আলম বলেন, তিনটি ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন ভবনের অভ্যন্তরীণ নকশার কাজ চলছে।
পার্ক সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সফটওয়্যার তৈরি ও আউটসোর্সিং কাজের জন্য ইতিমধ্যে ১২টি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৫টি প্রতিষ্ঠান পার্কের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, এ পার্কে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দ্বিতীয় দফায় ১৫ তলাবিশিষ্ট আরেকটি আইটি ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানেও ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।