ফরিদপুর–১

মঞ্জুর হোসেনের হঠাৎ আবির্ভাবে নানা কথা

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৬
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৮

মঞ্জুর হোসেনফরিদপুর-১ আসনে কে ধরছেন নৌকার হাল, এ আলোচনায় মুখর ওই জনপদ। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাংসদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমানসহ দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন মোট ২০ জন।

‘সাংসদ মনোনয়ন পাচ্ছেন না’—খবরের কাগজে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। কখনো শোনা যাচ্ছে সাবেক সাংসদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলামের কথা, কখনো আলোচিত হচ্ছে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিলীপ রায় কিংবা কখনো আলোচনায় আসছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার।

তবে সবশেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মঞ্জুর হোসেন বুলবুল। মঞ্জুর হোসেন রূপালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের বাসিন্দা।

আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে মঞ্জুর হোসেনের প্রচারণা বা কর্মকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে তেমন চোখে পড়েনি। এলাকায় দৃশ্যত তিনি অপরিচিত।

বিএনপি থেকে এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ শাহ মো. আবু জাফর।

 

স্থানীয় নেতারা যা বলছেন

মঞ্জুর হোসেনের নাম আসার বিষয়টি অনেকে চমক হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা হলো তিন উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে। তবে এ ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে তাঁরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিকুল মীরদাহ বলেন, ‘উনি (মঞ্জুর) একজন অপরিচিত মানুষ। এ-জাতীয় মানুষকে মনোনয়ন দিলে নেতা-কর্মীরা কীভাবে গ্রহণ করবেন, বুঝে উঠতে পারছি না। এ সিদ্ধান্ত ভালো হবে না।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন বলেন, ‘শুনেছি ওনাকে (মঞ্জুর) মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমার বলায় তো মনোনয়ন ঠেকবে না। তবে শেখ হাসিনা ওনাকে মনোনয়ন দিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কঠিন হবে। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে মনোনয়ন দিলে এতটা বেগ পেতে হতো না।’

‘যুগে যুগে আওয়ামী লীগ জেতে এই আসনে’ মন্তব্য করে মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ওনাকে (মঞ্জুর) রাজনীতিতে কোনো দিন দেখিনি। তবে কেউ কম ভোটে জিতবে কেউ বা বেশি ভোটে। নৌকার ঠকার কারণ নেই।’

মঞ্জুর হোসেন আশাবাদী

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাবেক সচিব মঞ্জুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজনের নাম রটলে আরেকজন পিছিয়ে পড়েন। আসলে এখন পর্যন্ত কেউ জানে না কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। লোকে একজন ভালো মানুষকে তাদের নেতা হিসেবে দেখতে চায়, এ জন্য আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি।’

মঞ্জুর হোসেন আরও বলেন, ‘আমি প্রচার-প্রচারণা বেশি করিনি সত্যি, তবে সেটা কাটিয়ে ওঠা ব্যাপার হবে না। আমার চেহারা হচ্ছে নৌকা প্রতীক।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ি আমি যেতে পারব না, তবে প্রত্যেক গ্রামে যেতে পারব।’ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভূমিকার বিষয়ে মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি না যে তাঁরা নেতিবাচক আচরণ করবেন। তাঁরা নেত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমাকেও কথা দিয়েছেন।’

বিএনপির প্রার্থী শাহ জাফর সম্পর্কে মঞ্জুর হোসেন ভাষ্য, ‘তাঁকে আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে চিনি। তবে বর্তমানে দেশে যে গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষজন স্বাচ্ছন্দ্যে আছে। এ জন্য অন্য কোনো দলের চেয়ে মানুষজন আওয়ামী লীগের প্রতি বেশি ভরসা করবে।’