কনিষ্ঠ প্রভাষককে করা হলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ০১:৩৩
আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ০১:৩৪

নিয়মনীতি ও বিধি উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের কনিষ্ঠ প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সৃষ্ট জটিলতায় কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর স্ত্রী আশানুর বিশ্বাস এ কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জটিলতার পর অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এ নিয়ে আরও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সার্বিক বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী না হওয়ায় বর্তমান উপাধ্যক্ষ ছানোয়ার হোসেন সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ, শিক্ষক ও কলেজ থেকে জানা গেছে, দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান ২০১২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ ছানোয়ার হোসেনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু পরিচালনা কমিটি উপাধ্যক্ষের পরিবর্তে কলেজে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া কনিষ্ঠ প্রভাষক মাসুদ রানাকে ২০১২ সালের ১ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে এ দায়িত্ব দিতে হবে। এদিকে চলতি বছরের ১৮ মার্চ আবদুল মান্নান মারা গেলে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।
এ সুযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদ রানা অধ্যক্ষ পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা নয়, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হলেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মাসুদ রানা অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হওয়ার সুবাধে অধ্যক্ষ পদের প্রার্থী হয়ে আবেদন করেন। গত ১৯ অক্টোবর তাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত করা হয়।
এদিকে উপাধ্যক্ষ ছানোয়ার হোসেন বিধিবহির্ভূতভাবে সর্বকনিষ্ঠ প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুসরণ করতে সভাপতি বরাবর আবেদন করেন।
আশানুর বিশ্বাস বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার কার্যবিবরণী লিখে ঢাকায় আমার বাসায় এনে স্বাক্ষর করার জন্য অনুরোধ করেন। সদস্যদের অনেকে আমাকে জানিয়েছেন, উপাধ্যক্ষের গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ সময় তাঁদের কথা অনুযায়ী আমি কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করি।’
ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী আমি দায়িত্ব পাই। কিন্তু নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কনিষ্ঠ একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।’ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুল বাকী অভিযোগ করেন, মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনিয়ম করা হয়েছে। এ বিষয়ে সামসুল মাস্টার জানান, তিনি যা করার তা সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী করেছেন।
মাসুদ রানা বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের দেওয়া দায়িত্ব আমি পালন করে যাচ্ছি। কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমার দেখার বিষয় নয়।’