দর্শক বিনোদন চায়, আমরা দিতে পারি না: মীর সাব্বির

মনজুর কাদের, ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:৪০
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:১১

মীর সাব্বির

ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আরটিভিতে প্রচারিত হলো ধারাবাহিক নাটক ‘নোয়াশাল’। এই নাটকের শেষ পর্ব দেখানো হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। অভিনয়ের পাশাপাশি মীর সাব্বির নাটকটির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক। নাটকটি নিয়ে কথা বলতে যখন তাঁকে ফোন করা হয়, তখন ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

৮৭১ তম পর্বে নাটকটি শেষ হলো। তার রেশ কি থেকে যাবে? 

আমরা নাটকটা শুরু করেছিলাম দুটো পরিবারের দ্বন্দ্ব নিয়ে। একজন মানুষের অসুস্থতায় দুটো পরিবার এক হয়ে যায়। আসলে অনেক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পরও আমরা আনন্দের মধ্যে জীবনযাপন করি। এই রেশ রাখার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি নাটক শেষ হলেও এই রেশ থেকে যাবে।

নাটকটি দর্শক কোথায় বেশি দেখেছে, টেলিভিশনে নাকি ইউটিউবে?
দর্শকের বেশি প্রতিক্রিয়া পেয়েছি টেলিভিশন থেকে। ইউটিউবে দুই বছর ধরে নাটকটির পর্বগুলো দেওয়া হচ্ছে। তার আগে ওভাবে আসেনি। ছয় বছর আগে নাটকটির প্রচার শুরু হয়, তখন এ দেশে ইউটিউব নিয়ে এতটা মাতামাতি ছিল না। তবে শেষ দিকে ইউটিউব আর টেলিভিশন—এই দুই মাধ্যম থেকে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।

আপনি বলতে চাচ্ছেন, টেলিভিশনে এখনো দর্শক নাটক দেখে?
অবশ্যই। এখন টেলিভিশন এক ধরনের অস্থির সময় পার করছে। এখন যাঁরা টেলিভিশন দেখেন, তাঁরা অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেন। ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের বিড়ম্বনা নাই। টেলিভিশন নাটক দেখতে গেলে ৭-৮ এমনকি ১০ মিনিটও বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।

এর থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে?
নাটক কিংবা অনুষ্ঠান যেটা ভালো, সেটা সবাই দেখবে। আমি যদি বলি, গানটি মানুষের ভালো লাগে, তা বারবার শোনে সবাই। দর্শকদের আমরা দোষ দিই, কিন্তু আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি, দর্শক বিনোদন চায়, আমরা দিতে পারি না। আমরা ভালো কনটেন্ট দিতে পারলে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যাবে, টেলিভিশনে নাটক দেখবে, টাকা দিয়ে গান কিনে শুনবে এবং ইউটিউবের সুবিধাও নেবে। বাজেট একটা বিষয়, শিল্পীও একটা ফ্যাক্টর।

লম্বা সময় ধরে নাটক চললে গল্পের ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে?
ঠিক থাকে না। তবে আমাদের এই নাটকে সেই সমস্যা হয়নি। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমিও যখন অভিনয় করি, তখন বুঝি কোন জায়গায় নাটকটার মান পড়ে যাচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা আমার ‘নোয়াশাল’ ধারাবাহিকে কাজে লাগিয়েছি। যখন মনে হয়েছে, মান পড়ে যাচ্ছে, তখন গল্পকে অন্যভাবে তুলে ধরেছি। আমার এই নাটকে ৪০ থেকে ৫০টি গল্পের বাঁক আছে। ১৪টি লোকেশন ব্যবহার করেছি। পর্ব অনুযায়ী আমরা এই কাজ করেছি, যাতে দর্শকের একঘেয়ে মনে না হয়। আমার এই নাটকটি একটা অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘দ্য বুক অব নোয়াশাল’ নামে একটা বই বের করার উদ্যোগ নিয়েছি।

আপনি ‘রাত জাগা ফুল’ নামের একটি ছবি নির্মাণের জন্য অনুদান পেয়েছেন। তার কী খবর?
নভেম্বরের শুরুতে শুটিংয়ে যাচ্ছি। শিল্পী চূড়ান্ত করিনি, আমি নিজে একটা চরিত্রে অভিনয় করছি।

আপনার সমসাময়িক অনেকেই অভিনয়ে অনিয়মিত। অথচ আপনি এখনো সমানতালে পর্দার সামনে ও পেছনে কাজ করছেন। এর পেছনের রহস্য কী?
প্রথম আলোর স্লোগান, ‘যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো’। আমিও মনে করি, যা কিছু ভালো তার সঙ্গে একটা আলো থাকেই। কাউকে ছোট করে বলছি না, আমি যে কাজ করেছি, মন দিয়ে করেছি, ভালোবেসে করেছি, প্রেম দিয়ে করেছি। সেই কারণে হয়তো এখনো কাজ করে যাচ্ছি।

আপনি প্রায়ই গান করেন। গান নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?
বরিশালের আঞ্চলিক গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। এত দিন যত নাটক করেছি, প্রতিটি নাটকে বরিশালের আঞ্চলিক গানের ছাপ রেখেছি। ভাবছি সামনে বরিশালের আঞ্চলিক গান নিয়ে কিছু করব।

আপনার প্রিয় শিল্পী কে?
সুবীর নন্দী, কুমার বিশ্বজিৎ আর আসিফ আকবর।

দ্বৈত কণ্ঠের গানের সুযোগ পেলে সহশিল্পী হিসেবে কাকে চান?
রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন।

অনেক পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে কার পরিচালনায় অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন?
আমি ভারতের নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলির ভক্ত। তাঁর অভিনয় আর পরিচালনা, দুটোই ভালো লাগে। কখনো তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারলে তা হবে আমার জন্য বিরাট ঘটনা।

আপনার চোখে সেরা তিন অভিনয়শিল্পী।
পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে হ‌ুমায়ুন ফরীদি, জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ আর নারী শিল্পীদের মধ্যে আছে শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত ও আফসানা মিমি।