জায়েদ খানের স্বপ্নপূরণ

জায়েদ খান, ছবি: সুমন ইউসুফকিছুদিনের ব্যবধানে জায়েদ খানের দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে, প্রেম করব তোমার সাথে আর ভালোবাসা সীমাহীন। দেশের কিছু প্রেক্ষাগৃহে এখনো ছবি দুটির প্রদর্শন চলছে। জায়েদ খান নামটি দর্শকদের কাছে এখন খুব পরিচিত। কথা হবে জায়েদ খানের সঙ্গে। জানাতেই বললেন, ‘চলে আসুন সোনারগাঁও হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে। ওখানে কিছু কাজ আছে। শেষ করেই আড্ডা দেব।’
নির্ধারিত সময়ে চলে এলেন জায়েদ খান। সুইমিংপুলের গা ঘেঁষে একটি টেবিলে বসে কথা হচ্ছে। হাসতে হাসতে বললেন,
: আমি কিন্তু ঠিক সময়েই হাজির হয়েছি।
: শুটিংয়েও তাই?
: অবশ্যই। সময়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ সচেতন থাকার চেষ্টা করি।
: কোথা থেকে এলেন?
: এফডিসি থেকে।
: শুটিং ছিল?
: না। লেলিন হায়দারের মিশন সিআইডি ছবি নিয়ে মিটিং করেছি।
: এখন আর কী কী ছবির কাজ করছেন?
: মিশন সিক্স ও রাজনীতি । শিগগিরই মুক্তি পাবে লাভ ইন মালয়েশিয়া, নগর মাস্তান আর বিয়ে হলো বাসর হলো না ছবিগুলো।
চলচ্চিত্র নিয়ে জায়েদ খানের উন্মাদনা বরাবরই একটু বেশি। শুটিং থাকুক বা না-থাকুক এফডিসিতেই বেশি সময় কাটান তিনি। চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজে পাওয়া যায় তাঁকে। জায়েদ খান বললেন, ‘আমি শতভাগ চলচ্চিত্রের মানুষ।’
সেই ছোটবেলায় চলচ্চিত্রের প্রেমে পড়েন জায়েদ খান। পিরোজপুর শহরে বাসার পাশেই জনতা সিনেমা হল। স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রায়ই চলে যেতেন সিনেমা হলে। বিনা টিকিটে ছবি দেখার জন্য হল মালিকের ছেলের সঙ্গে ভাব জমান। নতুন ছবি হলে এলেই তাঁর দেখা চাই।
জায়েদ খান বললেন, ‘তখন থেকেই চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।’
ওয়াসিম, সোহেল রানা, রুবেলের অভিনয় খুব ভালো লাগত জায়েদ খানের। প্রিয় শিল্পীর মতো করে চুল কাটানো থেকে শুরু করে তাঁদের ফ্যাশনও অনুসরণ করতেন। এসএসসি পাস করে ১৯৯৫ সালে ঢাকা আসেন। ভর্তি হন ঢাকা সিটি কলেজে। থাকতেন মধুমিতা সিনেমা হলের পেছনে বোনের বাসায়। ঢাকায় এসেও নিয়মিত ছবি দেখার সুযোগ পেয়ে গেলেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। পাশাপাশি নায়ক হওয়ার স্বপ্নপূরণের জন্য এফডিসিতে যাতায়াত শুরু হয় তাঁর। ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
বললেন, ‘সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মন ভরে যায়। দেখি রাজ্জাক, কবরী, ইলিয়াস কাঞ্চনসহ আরও অনেকই আছেন বিচারকের টেবিলে। ওই প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম হয়েছি। কথা ছিল যে প্রথম হবে, তাকে নতুন ছবিতে অভিনয়ে সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু অনেক দিন অপেক্ষা করেও সেই সুযোগ আর পাইনি।’
এরপর নিজেই চেষ্টা শুরু করেন জায়েদ খান। পিরোজপুরের এক প্রযোজক অভিনয়ের সুযোগ দেন তাঁকে। ছবির নাম ভালো ভালো ভালোবাসা । পরিচালক মোহাম্মদ হান্নান। চলচ্চিত্রে জায়েদ খানের যাত্রা হলো শুরু।
ভালো ভালো ভালোবাসা ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। জায়েদ খান বলেন, ‘প্রথম ছবি মুক্তির আগেই জমিদারবাড়ির মেয়ে ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত নামে আরও দুটি ছবিতে সুযোগ পেয়ে যাই।’
এরপর মন ছুঁয়েছে মন, আত্মগোপন, আমার স্বপ্ন আমার সংসার, তোকে ভালোবাসতেই হবে, অদৃশ্য শত্রু, কাছের মানুষ, প্রেম করব তোমার সাথে, নাগ-নাগিনীর স্বপ্ন ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।
জায়েদ খান বলেন, ‘ছেলেবেলায় দেখা সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’
ক্রিকেটের দারুণ ভক্ত জায়েদ খান। নিজেও ক্রিকেট খেলতেন। ছিলেন পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। পিরোজপুর জেলা দলেরও অধিনায়ক হয়েছিলেন তিনি।
২০১২ সালে আজাদ প্রোডাক্টস আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘রত্নগর্ভা’ সম্মাননা পান জায়েদ খানের মা সাহিদা হক। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট জায়েদ খান।
সব শেষে চলচ্চিত্র নিয়ে বলেন, ‘চলচ্চিত্রে এখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। এই খারাপ সময় কাটানোর জন্য সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। শিল্পীদের চলচ্চিত্রের প্রতি আরও আন্তরিক হতে হবে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকারকেও এখনই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে।’