রেজা খানের লেখা

মাধবকুণ্ড: ঝরনার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য জগৎ

চশমাপরা হনুমান
ছবি: লেখক

মাধবকুণ্ড বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা, ঝরনার শব্দ, পানির কুয়াশার মতো চাদর আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানোর মুহূর্ত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এই জলপ্রপাত বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র।

কিন্তু একজন বন্য প্রাণীবিদ যখন মাধবকুণ্ডে যান, তাঁর চোখে শুধু জলপ্রপাত ধরা পড়ে না। চারপাশের পাহাড়ি বন, পাথর, ঝোপঝাড়, গাছ থেকে পড়ে জমে ওঠা পাতার স্তর এবং অন্ধকারে সক্রিয় অসংখ্য ছোট প্রাণীও তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মাধবকুণ্ড তাই শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গবেষণাগার।

গত ডিসেম্বরের কথা। দুই দিনের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শুনি ব্যাঙের ডাক। সে কী কাণ্ড! ডিসেম্বরের শীতে কোন ব্যাঙের এমন সাহস হলো যে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে প্রজননের জন্য পানিতে নেমেছে?

তড়িঘড়ি করে পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে দেখি, দুই–তিন ডজন পুরুষ ব্যাঙ পানির ধারে ডাকাডাকি ও নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করছে। কয়েক জোড়া ব্যাঙ ডিম পাড়ায় ব্যস্ত। প্রজাতিটি ছিল বনে বসবাসকারী বারডমোরের সরু মাথা ব্যাঙ। সে গল্প অন্য কোনো দিন বলা যাবে। আজ দৃষ্টি ফেরাই মাধবকুণ্ডের জীববৈচিত্র্যের দিকে।

জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শুনি ব্যাঙের ডাক

এক যুগে বদলে যাওয়া বন

২০১২ সালের আগস্টে প্রথমবার মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে যাই। তখন পার্কের ভেতরের রাস্তা খুব উন্নত ছিল না। কোথাও ইট বিছানো, কোথাও কাঁচা। তখন এখনকার মতো চারতলা বিশ্রামাগার ছিল না। ছিল টিন বা টালির ছাউনি দেওয়া ছোট একটি স্থাপনা। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আসতেন। রাতযাপনের তেমন ব্যবস্থা ছিল না। দু-একটি ছোট দোকানে স্থানীয় হস্তশিল্প ও বাগানের ফল বিক্রি হতো। একটি দোতলা ভবনে কয়েকটি কক্ষ ছিল, অনেকটা হোটেলের মতো। খাবারের জন্য আগেভাগেই বলে রাখতে হতো।

চারপাশে ছিল তুলনামূলক ঘন ও বুনো পরিবেশ। একজন জীববিজ্ঞানীর কাছে সেটিই ছিল আসল আকর্ষণ। রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড়, গাছপালা ও ভেজা মাটিতে অসংখ্য পোকামাকড়, প্রজাপতি, ব্যাঙ, সরীসৃপ, পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী বিচরণ করত।

স্থানীয় গাইড একটি গাছের পাতাঘেরা শাখায় ঘুমিয়ে থাকা লজ্জাবতী বানরও দেখালেন

মাধবকুণ্ডের বৃষ্টি আমাদের কাছে কখনো অসুবিধা নয়; অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে গবেষণার সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ভারী বৃষ্টির সময় অথবা বৃষ্টি থামার পর উভচর প্রাণীরা লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়ে আসে। সক্রিয় হয়ে ওঠে সরীসৃপ ও পোকামাকড়ও। গত এক যুগের জরিপে এই এলাকায় বেশ কিছু প্রাণী দেশের জন্য প্রথমবার নথিভুক্ত হয়েছে। আরও অনেক প্রাণী শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

পর্যটন বাড়াতে সরকার এখানে ইকোপার্ক গড়ে তুলেছে। কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদবিদদের কাছে জলপ্রপাত এবং আশপাশের পাহাড়ি বন আরও বড় সম্পদ। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও বন উজাড়, চা–বাগানের বিস্তার, দখল, গাছ কাটা ও মানুষের অন্যান্য চাপের কারণে এখানকার প্রাকৃতিক মিশ্র চিরহরিৎ বন ব্যাপকভাবে বদলে গেছে।

রেজা খান

একসময় এই বৃহত্তর পাহাড়ি ভূদৃশ্যে বিচরণ করা অনেক বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী এখন স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত। হাতি, গন্ডার, বুনো মহিষ, বাঘ, চিতাবাঘ, ভালুক, গৌর, সাম্বারসহ বড় প্রাণীদের অধিকাংশই এখন এই বনভূমিতে আর নেই। মজার ব্যাপার এই যে এসব প্রাণী আশপাশের দেশে এখনো দিব্যি বেঁচে আছে। বড় প্রাণী হারিয়ে গেছে বলে অবশ্য বনটি মূল্যহীন হয়ে যায়নি। বরং ছোট ও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত প্রাণীদের জন্য অবশিষ্ট বনভূমির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মাধবকুণ্ড বৃহত্তর পাথারিয়া পাহাড়ের অংশ। এই পাহাড়ি ভূদৃশ্য বাংলাদেশের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা পেরিয়ে ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলার দিকে বিস্তৃত। একটি বড় বন ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হলে শুধু গাছ কমে না; প্রাণীদের চলাচলের পথ, খাদ্যের উৎস, প্রজননক্ষেত্র ও আশ্রয়ও কমে যায়। ব্যাহত হয় এক বনখণ্ডের সঙ্গে অন্য বনখণ্ডের প্রাকৃতিক সংযোগ।

পর্যটকের ভিড়ে কোথায় গেল প্রাণীরা

সাম্প্রতিক সফরটি ছিল একটু অন্য রকম। ১৫ আগস্ট। আগের দিন আমরা হামহাম জলপ্রপাত ও আশপাশের পাহাড়ি বনে কঠিন মাঠ জরিপ করেছি। সেখান থেকে ঘুরপথে মাধবকুণ্ডে পৌঁছাই।

তখন সেখানে মানুষের ঢল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক শ মানুষ জলপ্রপাতের দিকে যাচ্ছেন। কেউ গোসল করছেন, কেউ পানিতে খেলছেন, কেউ আবার একে অপরের দিকে পানি ছুড়ে আনন্দ করছেন। আমরা জানতাম, এত মানুষের ভিড়ে খুব বেশি বন্য প্রাণী দেখা যাবে না। কিন্তু আমার মনে তখন আরেকটি প্রশ্ন—এত মানুষের উপস্থিতিতে বন্য প্রাণীরা কীভাবে আচরণ করে?

প্রথমে দেখা পেলাম চশমাপরা হনুমান বা ফেয়ার্স লিফ মানকির একটি ছোট দলের। চার থেকে ছয়টি অপরিণত হনুমান ছিল সেখানে। আশপাশে কোনো পূর্ণ বয়স্ক হনুমান আমাদের চোখে পড়েনি। এই পর্যবেক্ষণ তাদের সামাজিক ও বিচরণ আচরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করল। বন্য প্রাণী গবেষণায় অনেক সময় একটি পর্যবেক্ষণ উত্তর দেওয়ার চেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ঘাড় ফেরাতেই নজরে এল একটি কাঠবিড়ালি। গাছের খাড়া কাণ্ডের সঙ্গে শরীর মিশিয়ে বসে আছে। সামনের পায়ে ধরা পর্যটকদের ফেলে দেওয়া একটি বড় পেয়ারা। পেছনের পা দিয়ে ছোট একটি ডাল সাঁড়াশির মতো আটকে ধরে ফলটি খাচ্ছিল।

পথের দুই পাশে মানুষের লাগানো দেশি–বিদেশি গাছের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক গাছ ও ঝোপঝাড়ও রয়েছে। সেখানে চোখে পড়ল প্রজাপতি, কীটপতঙ্গ ও কয়েক প্রজাতির পাখি। স্থানীয় গাইড একটি গাছের পাতাঘেরা শাখায় ঘুমিয়ে থাকা লজ্জাবতী বানরও দেখালেন। কুকুর কুণ্ডলী পাকিয়ে পাতার সঙ্গে এমনভাবে মিশে ছিল যে দেহের আগা–মাথা বোঝাই কঠিন। সে তো আসলে নিশাচর প্রাণী।

মূল ফটক থেকে আকাঁবাকাঁ পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পেলাম পাখির দল। শেষ বেলার পড়ন্ত রোদে দিনান্তের খাবার কুড়াচ্ছিল পাখিরা। অভিনব একটি পাখি আছে বনমালি বা মখমল-কপাল কীটকুড়ানি বা ভেলভেট-ফ্রন্টেড নাটহ্যাচ। এদের পোকা ধরার কায়দা কাঠঠোকরার চেয়ে বেশ আলাদা। সচরাচর কাঠঠোকরারা গাছের নিচের দিক থেকে ওপরের দিকে যায় খাবার ধরতে ধরতে। আর কীটকুড়ানিরা যায় ওপর থেকে নিচের দিকে। উপরন্তু, এরা গাছের বাকলের ওপর ড্রামিং বা জোরালো ঠোকর মারে না, যাতে কাঠ ফুটো হয়। এরা কাঠঠোকরার দলেও পড়ে না।

নীলাভ পিঠের এ পাখির পেটের দিক ক্রিমরঙা বা প্রায় সাদাটে। আর টকটকে লাল সুচালো ঠোঁট। ঠিক কপালের ওপর আছে কালো মখমলসদৃশ পাথালিপট্টি। এর পেছন থেকে শুরু করে চোখের ওপর দিয়ে ঘাড় পর্যন্ত চলে গেছে একটি মোটা রেখা, যা মেয়ে কীটকুড়ানিতে নেই। চোখ হলুদ বলয়যুক্ত। লেজ খাটো। দারুণ চঞ্চলমতি এই পাখি। এরা মূলত বাকলের ওপর যে ছোট ছোট কীটপতঙ্গ বা তার ওপর যে লাইকেন–জাতীয় ছত্রাকসদৃশ ছোপমতো থাকে, সেখানে বসবাসকারী ছোট কীট ও তার শূককীট ধরে খায়। ওরা সচরাচর জোড়ায় বা ছোট দলে থাকে। লম্বায় কেবল ১২-১৩ সেন্টিমিটার বা ৫ ইঞ্চি। আমার বেশ সময় কেটে গেছে ওদের চঞ্চলমতি কর্মকাণ্ড অনুসরণ করতে গিয়ে।

জলপ্রপাতের পাদদেশে গিয়ে আরেকটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। আগের বর্ষার রাতের জরিপে যেখানে অনেক উভচর প্রাণী দেখেছিলাম, এবার সেখানে প্রায় কিছুই পাওয়া গেল না। সাধারণ কটকটি ব্যাঙ ছাড়া জলপ্রপাতনির্ভর আর কোনো ব্যাঙ চোখে পড়ল না। এক ঘণ্টার বেশি সময় খুঁজে শেষ পর্যন্ত একটি চোখা–মাথা পাহাড়ি ব্যাঙ পাওয়া গেল। তখনো মানুষের ভিড় কমেনি।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

রাত নামতেই অন্য মাধবকুণ্ড

সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করলেন। কিছুক্ষণ বিরতির পর আমরা আবার জলপ্রপাতের দিকে রওনা হলাম। সূর্য ডোবার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেল।

মাধবকুণ্ড তখন প্রায় নিঃশব্দ, যদিও জলপ্রপাতের গর্জন আগের মতোই প্রবল। উঁচু পাহাড় থেকে দ্রুত নেমে আসা পানি নিচের বড় জলাশয়ে পড়ছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পানির সূক্ষ্ম কণা। বাতাসে তৈরি হয়েছে স্যাঁতসেঁতে ও ঠান্ডা এক অনুভূতি।

প্রচণ্ড শব্দের মধ্যেই হঠাৎ একটি ক্ষীণ ডাক শুনতে পেলাম। চোখা–মাথা পাহাড়ি পুরুষ ব্যাঙ অনবরত ডাকছে। প্রায় ১০০ বর্গমিটার এলাকায় আমরা ৩০টির বেশি ব্যাঙের ডাক গুনলাম। ব্যাঙগুলো সেখানে ছিল, কিন্তু দিনের বেলায় শত শত মানুষের ভিড়ে আমরা তাদের দেখতে পাইনি।

জলপ্রপাতের পাদদেশ থেকে ওপরে ওঠার সময় একটি মস্ত কাঠিপোকা দেখলাম। লম্বায় প্রায় দেড় ফুট। সরু ডালের ওপর লম্বালম্বি পড়ে থাকলে তাকে ডালপালার অংশ বলেই মনে হয়।

আমি তখন ব্যাঙের ডাক ও আচরণ পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত। স্থানীয় গাইডের মনোযোগ ছিল সরীসৃপের দিকে। হঠাৎ তিনি আমাদের ডাকলেন। একটি বিষধর সবুজ বোড়া বা গ্রিন পিট ভাইপার খুঁজে পেয়েছে। দলের অন্যরা একটি কালকেউটে বা ক্রেইটকে দ্রুত রাস্তা পার হতে দেখলেন।

এরপর আমরা নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণীর দিকে মনোযোগ দিলাম। মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে স্থানীয় গাইড তিনটি অপরিণত ছোট গন্ধগোকুল বা ভাম দেখালেন। মাঝারি উচ্চতার গাছপালার মধ্যে তারা খাবার খুঁজছিল।

এক ঘণ্টার কম সময়ে আমরা চারটি লজ্জাবতী বানর দেখতে পেলাম। সবাই পোকামাকড় ধরায় ব্যস্ত। দিনের কোলাহলপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রটি তখন পরিণত হয়েছে ভিন্ন এক নিশাচর জগতে। সেখানে ছিল জলপ্রপাতের বিরামহীন গর্জন আর ঝিঁঝি পোকা, সিকাডা ও ক্রিকেটের আকাশ কাঁপানো ডাক।

একেক সময় একেক রূপ নেয় মাধবকুণ্ড

মাধবকুণ্ডের বড় শিক্ষা

এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখে—একটি জায়গা কি একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্র এবং বন্য প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাস হতে পারে? অবশ্যই পারে। কিন্তু সে জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা।

পর্যটন নিজে জীববৈচিত্র্যের শত্রু নয়। সমস্যা হয়, যখন পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে পর্যটন পরিচালিত হয়। মাধবকুণ্ডে মানুষ আসবে, পর্যটন হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সব জায়গায়, সব সময় এবং একই মাত্রায় মানুষের প্রবেশের প্রয়োজন নেই। ঝরনার আশপাশের সংবেদনশীল প্রজননস্থল, ছড়া, জলাশয়, ঝোপঝাড় ও নিশাচর প্রাণীর আবাস বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখা দরকার।

রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়নও হতে পারে। তবে তার আগে দেখতে হবে উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা কী হারাচ্ছি। ব্যাঙের প্রয়োজন পরিষ্কার পানি ও আর্দ্র পরিবেশ। সাপের প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়। লজ্জাবতী বানরের প্রয়োজন গাছের ছায়া, অন্ধকার ও নিরিবিলি পরিবেশ। প্রজাপতির প্রয়োজন নির্দিষ্ট খাদ্যগাছ। পাখির প্রয়োজন গাছের চাঁদোয়া ও খাদ্যের উৎস।

ছোট ছাগলডাকা ব্যাঙ

মাধবকুণ্ডে আমাদের সাম্প্রতিক জরিপ ছিল বাংলাদেশের প্রাণিকুলের লাল তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের কাজের অংশ। এই ধরনের জরিপে কোন প্রজাতি কোথায় আছে, সংখ্যা কেমন, কোন পরিবেশে বেঁচে আছে এবং তার আবাস কতটা নিরাপদ—এসব জানা জরুরি।

মাধবকুণ্ডের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো আমরা হয়তো দৃশ্যমান জলপ্রপাতটি সংরক্ষণ করব, কিন্তু ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলব তার চারপাশের বাস্তুতন্ত্র। গাছপালা, ঝোপঝাড়, ছড়া, পাথুরে আশ্রয়স্থল, পাতার স্তর ও অন্ধকার রাতের পরিবেশ হারিয়ে গেলে অদৃশ্য প্রাণভুবনও একদিন হারিয়ে যাবে।

জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডের সবচেয়ে দৃশ্যমান আকর্ষণ। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় সম্পদ আসলে তাকে ঘিরে থাকা জীবন্ত বন। সত্যিকারের ইকোপার্ক হিসেবে মাধবকুণ্ডকে রক্ষা করতে হলে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে সেই বনকেই।