আমাদের আহ্বানে লেখা পাঠিয়েছেন পাঠকেরা। কোভিড–১৯ অতিমারির শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার দিনে প্রথম আলোয় প্রকাশিত কোনো খবর থেকে স্বস্তি, আনন্দ, সাহস বা প্রেরণা পেয়ে থাকলে লিখে জানাচ্ছেন সে কথা। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com
default-image

১৯৯৮ সাল থেকেই প্রথম আলোর সঙ্গে পরিচয়। শুরুতেই ভালো লাগা। এরপর ভালোবাসা। কারণ, এ পত্রিকাটি প্রতিনিয়ত আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে, নিজেকে বিকশিত করে আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। কোনো কারণে পত্রিকাটি পড়া না গেলে মনে হয়, দিনটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।

এই ধারার হঠাৎ ছন্দপতন হলো করোনা অতিমারির বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে। ঘুম থেকে উঠে সেদিন অভ্যাসবশত বাইরের দরজায় গিয়ে দেখি পত্রিকা নেই। ভাবলাম, হকার শাহজাহান ভাইয়ের শরীর খারাপ করেছে। কিন্তু পরদিনও তা–ই। ফোন দিলাম শাহজাহান ভাইকে। পেলাম না। কয়েক দিন পরে নিশ্চিত হলাম, মাদারীপুরে পত্রিকা আসছে না। ঢাকায় আত্মীয়দের ফোন দিয়ে জানতে পারলাম, সেখানে অনেক বাসায় পত্রিকা না দিলেও ফুটপাতে পাওয়া যাচ্ছে। আহা, যদি ঢাকায় থাকতাম।

বিজ্ঞাপন

একদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে শঙ্কাভয়ের শেষ নেই, অন্যদিকে নিত্যদিনের প্রথম আলোর অনুপস্থিতি। দিন তো আর ফুরায় না। কিছুক্ষণ পরপর প্রথম আলোর অনলাইনে ঢুঁ মারি। কিন্তু দুধের সাধ কি আর ঘোলে মেটে! একদিন অনলাইনে দেখলাম, কাগজে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। মন আনন্দে ভরে উঠল। ফোন দিলাম হকার ভাইকে। কিন্তু আবারও। পত্রিকাই যে আসছে না। তবে বললেন, মাদারীপুরে পত্রিকা আসামাত্র আমার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তাকে কীভাবে বলি, করোনা মোকাবিলায় শরীর ঠিক রাখার পাশাপাশি মন ঠিক রাখতে প্রথম আলোও যে বড় দরকার!

অবশেষে সাধারণ ছুটি শেষ হলো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার দেখা পেলাম প্রথম আলোর। কী যে অসাধারণ ভালো লাগায় মন ভরে উঠল! প্রথম আলো নামটিই যেন স্বস্তির, আনন্দের, সাহসের, প্রেরণার। করোনার অতিমারির এই দীর্ঘ সময়ে আশঙ্কা ও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে প্রথম আলো হয়ে উঠল বরাবরের মতো ভরসার জায়গা। পত্রিকায় প্রকাশিত নানা রকমের তথ্যে আমিই যেন হয়ে উঠলাম একজন ছোটখাটো করোনা বিশেষজ্ঞ।

করোনা অতিমারির শুরুতে আপনজন যখন মৃতদেহের সৎকার করছিল না, সন্তানেরা মাকে পথে ফেলে আসছিল, মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছিল সেবা না পেয়ে, চলছিল মাস্ক আর স্যানিটাইজার নিয়ে কাড়াকাড়ি। কিছুটা আতঙ্কিতই হয়ে পড়েছিলাম, বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবার কিছু হয়ে গেলে চিকিৎসা পাব তো?

এসব শঙ্কা আর দুশ্চিন্তা আস্তে আস্তে কেটে যেতে লাগল নানা ধরনের খবর পড়তে পড়তে। সে ধরনের সংবাদ ছাপানোয় প্রথম আলো অসামান্য ভূমিকা পালন করায়। সিলেটের চিকিৎসক মঈন উদ্দিনের বীরোচিত আত্মত্যাগ, নারায়ণগঞ্জের জীবনকে তুচ্ছ করে টিম খোরশেদের মৃতদেহ সৎকার করা, রাতভর সেবা করে অক্সিজেন দিয়েও এক রোগীকে বাঁচাতে না পেরে তরুণ চিকিৎসকের অসহায়তা, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া ইত্যাদি, পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছি প্রতিনিয়ত। ভরসা পেয়েছি এ কথা ভেবে যে কেউ না কেউ পাশে থাকবে। এসব খবর স্বস্তি এনেছে মনে, দূর করেছে অনেক অমূলক বিভ্রান্তি। মনে প্রত্যয় জেগেছে, মানুষ আছে মানুষের পাশে।

১৬ জুন ২০২০ প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবিতে দেখলাম, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে এসে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা স্ত্রীকে অ্যাম্বুলেন্সে বসে তাঁর স্বামী অভয় দিচ্ছেন। অপূর্ব সে ছবিটি আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আপনজনের এমন ভালোবাসাই তো আমাদের জীবনের দিকে টেনে আনে। লড়াই করতে প্রেরণা জোগায় সব ধরনের অতিমারির বিরুদ্ধে।

১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হলো আরেকটি ছবি। একজন মা ক্রিকেট খেলছেন ছেলের সঙ্গে। মা–ছেলের সেই ক্রিকেট খেলার দৃশ্য দেখে অন্য রকম ভালো লাগায় আপ্লুত হয়েছি! দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে কোনো কিছুই যে বাধা হয়ে উঠতে পারে না, ছবিটি তার প্রমাণ হয়ে রইল। এ ধরনের ছবি সমাজকে বদলে দেওয়ার প্রেরণা জাগায়।

এভাবে প্রথম আলো আমাদের পাশে ছিল আস্থা নিয়ে। প্রথম আলোর উৎসারিত আলোয় আলোকিত হোক বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0