বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনলাইনে দুই সেমিস্টার ক্লাস নেওয়ার পর চলতি বছরের ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৫তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন থেকে আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয় ১ জুলাই থেকে। এসব পরীক্ষা অনলাইন ও সশরীর উভয়ভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা যায়, সে বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

স্নাতকোত্তর ক্লাস শুরুর অপেক্ষায় বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন সদ্য স্নাতক শেষ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা সায়মন। তিনি বলেন, ‘যত দিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না, তত দিন আমরা স্বাভাবিক পড়াশোনায় ফিরতে পারছি না। মেয়েরা শিক্ষার দিক থেকে করোনার সময়টাতে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এক বছরে আমার অনেক বান্ধবীর বিয়ে হয়ে গেছে। অথচ ওদের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করার। বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকলে হয়তো তাদের জীবনটা অন্য রকম হতে পারত।’

ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সাঈদ আহমেদ বলেন, তাঁদের মতো নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো করে বুঝেই উঠতে পারেননি, এরই মধ্যে করোনার হানা। করোনার আগে মাত্র এক মাস ক্যাম্পাসে ছিলেন তাঁরা। অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা সব দিক দিয়েই তাঁরা পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন ক্লাস চললেও অনেকে ল্যাব ক্লাস হাতে–কলমে করতে পারেননি। একে অপরকেও ভালোভাবে চিনতে পারেননি। বাড়ির চার দেয়ালে আটকে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কবে চালু হবে, এ আশায় এখন সময় কাটাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস চালু ছিল করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ পরীক্ষা নেওয়াও শেষ হয়েছে। তবে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর করোনার টিকা নেওয়া শেষ হবে। এর ১৫ দিন পর অর্থাৎ আগামী মাসের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এখন আবাসিক দলগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কারও করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে শৌচাগার থেকে শুরু করে যেসব স্থানে কিছুটা অবকাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব সংস্কারে কাজ চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়তে হয়নি।
নির্দেশনা এলেই চালু হবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এলেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও এত দিন অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। এখন অনলাইনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা এলেই সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় চালুর তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে যেকোনো মুহূর্তে যেন বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা যায়, এ রকম সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন