বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত আগস্টে নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিক প্রাণ হারান। সে ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে প্রধান করে ২৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি একাধিক উপকমিটি গঠন করে। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে কি না, থাকলে সেটি কার্যকর কি না, অবকাঠামো ঠিক আছে কি না, অন্যান্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় দেখতে ১০৮ দল গঠন করা হয়। প্রতিটি দলে ১০ জন করে মোট ১ হাজার ৮০ জনকে বাছাই করে তাঁদের এক দিনের প্রশিক্ষণ দেয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

কলকারখানা পরিদর্শনে গিয়ে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে। কারখানায় গিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
নাজমুল আহসান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম

বিডার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সারা দেশে যেসব খাতের কারখানায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে, গত নভেম্বর থেকে সেগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকে বাদ দিয়ে সারা দেশে ৩২ খাতের ৪৫ হাজার কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার কারখানা পরিদর্শন করা হবে। পরে ধাপে ধাপে অন্য কারখানাগুলোও পরিদর্শন করা হবে।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী সদস্য এবং কারখানা পরিদর্শনে সরকার গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অভিজিৎ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। কারখানাগুলোতে কী ধরনের ত্রুটি ছিল, প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুপারিশও তুলে ধরা হচ্ছে। সব প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা জাতীয় কমিটির কাছে তুলে ধরা হবে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় যে ১০৮টি দল কারখানা পরিদর্শনে যাচ্ছে, সেখান থেকে তিনটি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের। তারা জানায়, বেশির ভাগ কারখানার নকশার অনুমোদন নেই। যেনতেনভাবে ভবন তৈরি করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা নেই। আবার অনেক কারখানা ভবনের অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বিদ্যমান ভবনের মিল নেই। অনেক কারখানার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। কোনো কোনো কারখানার ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।

একটি দলের প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, কলকারখানা পরিদর্শনে গিয়ে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে। কারখানার মালিক পরিদর্শনের কথা শুনে কারখানা বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। কারখানায় গিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এসব ত্রুটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে।

আবার কারখানা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে নানা চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন তাঁরা। জানা গেছে, কারখানায় পরিদর্শনের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। কিন্তু তাদের দেওয়া হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। পরিবহনসংকটের কারণে কারখানা পরিদর্শনের গতি কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি দলে যে ১০ জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের অনেকে বদলি হচ্ছেন। তখন নতুন কাউকে সংযুক্ত করে প্রশিক্ষণ দিতে আবার সময় লাগছে। এ কারণে প্রথম দফায় ৫ হাজার, পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ৪৫ হাজার কারখানা কবে নাগাদ পরিদর্শন শেষ হবে, তা নিয়ে খোদ সংশয় বিডার মধ্যেই।

সরকারি তথ্যমতে, দেশব্যাপী এখন ৪৫ হাজার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ হাজার কারখানা হলো খাদ্য উৎপাদনকারী খাতের। দ্বিতীয় সর্বাধিক ৩ হাজার ৩২৬টি আছে বস্ত্র খাতে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতে ২ হাজার ৭০৪টি কারখানা আছে।

বিডার একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সে কারণে এবারের পরিদর্শনে পোশাক খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বিডা বলছে, প্রতিটি দল পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কারখানার ত্রুটিবিচ্যুতি প্রতিবেদন তুলে ধরবে। প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কমিটির কাছে। তারপর জাতীয় কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন