সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, গত কয়েক যুগে দেশের অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের আয়বৈষম্য সমান্তরাল হারে বেড়েছে। এ বৈষম্য বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ: জনসংখ্যা, পরিবেশ ও অর্থনীতি নামের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জ্জা আজিজুল এসব কথা বলেন। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বইটির প্রকাশনা সংস্থা এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্স স্টাডিজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, গবেষণার ফলাফলকে দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর উন্নয়নকে শুধু সরকারি খাতের বিষয় হিসেবে না দেখে বেসরকারি খাতকেও এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তিনি দেশের ৪৮৫টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কি নতুন করে প্রশিক্ষিত বেকার তৈরি করছে, নাকি দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে জলবায়ু তহবিল গঠন করা হয়েছিল, পরবর্তী সরকার এসে তাতে আরও অর্থ জোগান দিয়েছিল উল্লেখ করে মির্জ্জা আজিজুল বলেন, কিন্তু ওই অর্থ ঠিকমতো ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী নিজেই বলছেন, ‘এই অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য সরকারের নেই।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আইনুন নিশাত বলেন, অনেকে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেন। কিন্তু দেশে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান না হওয়ার ফলেই মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে। এর সঙ্গে জলবায়ুর কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ-সংক্রান্ত যেসব গবেষণা হয়, তার ৮০ শতাংশই বিদেশিরা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গবেষকদেরও গবেষণা ও লেখালেখির দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
মোহাম্মদ এ মাবুদ তাঁর সম্পাদিত বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ১৫ অধ্যায়ের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার ধরন ও গতি-প্রকৃতি, পরিবেশগত সমস্যা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন