default-image

আমার বাড়িওয়ালা অ্যাডভান্স প্রকৃতির মানুষ। সব কাজই অগ্রিম করতে পছন্দ করেন। তাই নতুন বছর আসার কয়েক দিন আগেই চলে গেলেন জ্যোতিষীর দরবারে। বছরের প্রথম দিন গেলে যদি ভিড় বেশি হয়! এই চান্সে যদি জ্যোতিষী ফি বেশি নেয়! বাড়িওয়ালা জ্যোতিষীর দরবারে গিয়ে দেখেন ভদ্রলোক বসে বসে ঝিমুচ্ছেন। কাস্টমার দেখে ঝিমুনিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে জ্যোতিষীসুলভ ভঙ্গিমা নিয়ে আসন গ্রহণ করলেন তিনি। বাড়িওয়ালা বললেন, ‘আমি হাত দেখাতে এসেছি।’ জ্যোতিষী চোখের ইশারায় তাকে হাত বাড়িয়ে দিতে বললেন।
বাড়িওয়ালা হাত বাড়িয়ে দিতেই জ্যোতিষী কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন, ‘আপনার হাতে তো কোনো রেখাই নেই!’
: সরি, হাতমোজা খুলতে ভুলে গেছি।
বাড়িওয়ালা তার স্কিন কালারের হাতমোজাটা খুলে ফেললেন। জ্যোতিষী খানিকটা বিব্রত হয়ে বললেন, ‘সরি, চশমা পরিনি তো, তাই দেখতে পাইনি আপনার হাতে যে মোজা। তবে মোজাটা স্কিন কালারের না হয়ে অন্য যেকোনো কালারের হলে কিন্তু চশমা ছাড়াই দেখতে পেতাম।’ বাড়িওয়ালা হেসে দিলেন, ‘এরপর এলে সবুজ কালারের মোজা পরে আসব। গত বছর শ্বশুরবাড়ি থেকে এক জোড়া সবুজ মোজা পেয়েছিলাম।’ জ্যোতিষী ভাবলেন তার সঙ্গে ঠাট্টা করা হচ্ছে। তাই মুখ গোমড়া করেই বাড়িওয়ালার হাত দেখতে লাগলেন। মিনিট খানেক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বললেন, ‘আগামী বছরটা আপনার ভালো যাবে না। আপনার ওপর শনির আছর আছে।’
: তাহলে আজকেই আমি বিয়েটা ক্যানসেল করে দিচ্ছি।
: আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না।
: আপনি বললেন না, আমার ওপর নাকি শনির আছর আছে! তাই আমি আমার ছেলের বিয়েটা ক্যানসেল করে দেব। কারণ, সে বিয়ে করতে যাচ্ছে শনিরআখড়ায়।তাও আবার আগামী শনিবারে। শনি রিলেটেড এই বিয়েটা না হলে শনির আছর এমনিতেই কেটে যাবে।
‘ও!’ জ্যোতিষী বাড়িওয়ালার হাতটা আরও ভালো করে দেখে বললেন, ‘আপনার যাত্রা শুভ।’
বাড়িওয়ালা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, ‘তাহলে তো ছেলেকে শনিরআখড়ায় বিয়ে না করিয়ে যাত্রাবাড়িতে করাতে পারি। যেহেতু যাত্রা শুভ।’
: বেহুদা কথা বলবেন না। আমি কিন্তু এই যাত্রার কথা বলিনি।
: বুঝতে পেরেছি আপনি কোন যাত্রার কথা বলেছেন। নিশ্চয়ই যাত্রাপালার কথা বলেছেন? কিন্তু এই ডিজিটাল যুগের মানুষ তো যাত্রাপালা সেভাবে দেখে না। তাহলে যাত্রা শুভ হয় কী করে?
: আপনার হাত আমি দেখব না। আপনি যান।
: আমি আপনার মনে দুঃখ দিয়ে থাকলে সরি। আপনি দয়া করে আমার হাতটা আরেকটু দেখে দেন।
জ্যোতিষী আবার হাত দেখতে লাগলেন। একপর্যায়ে বললেন, ‘আপনার খুব কাছের কারও দ্বারা আপনার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।’ বাড়িওয়ালা শঙ্কিত মুখে বললেন, ‘সেই লোকটা যে কে, সেটা আমি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি।’ জ্যোতিষী অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘বুঝতে পেরেছেন! কে সে?’
: কে আবার! আপনি। কারণ, এই মুহূর্তে আপনিই তো আমার খুব কাছে বসে আছেন। এ ছাড়া আমি প্রথম থেকেই সন্দেহ করছিলাম, আপনার দ্বারা আমার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হতে পারে। আচ্ছা, আপনার ফি কত?
: যান, আপনার কোনো টাকাই দিতে হবে না। যান আপনি! আপনার মতো বাচাল কাস্টমারের কোনো দরকার নেই আমার।
বাড়িওয়ালা ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে চলে এলেন। তারপর কী মনে করে যেন আবার গেলেন জ্যোতিষীর কাছে। মুখ কাচুমাচু করে বললেন, ‘দয়া করে শুধু বলে দিন আয়রোজগার কেমন হবে। এটা বলে দিলেই আমি চলে যাব।’
জ্যোতিষী টান দিয়ে তার হাতটা কাছে নিয়ে একঝলক চোখ বুলিয়ে বললেন, ‘আয়রোজগার একদমই হবে না। অর্থসংকটে ভুগবেন।’
: হেহ্, অর্থসংকটে ভুগব। দেখেন না অর্থসংকট কীভাবে দূর করি!
অতঃপর বাড়িওয়ালা অর্থসংকট দূর করার জন্য দুটি কাজ করলেন। প্রথম কাজ—বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিলেন এক হাজার টাকা করে। দ্বিতীয় কাজ—একটা বাংলা অভিধান কিনে আনলেন। যেহেতু অভিধানে অনেক অর্থ (শব্দার্থ) থাকে, তাই অর্থসংকটে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই!

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন