রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসন ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চালুর দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সংহতি সমাবেশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রংপুরবাসীর স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষার জন্য সত্যিকার অর্থে মুক্ত বুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর থেকেই এটি নানামুখী সংকটে জর্জরিত। গত চার মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
বক্তারা এ সময় অবিলম্বে এ অবস্থা নিরসন ও ভর্তি কার্যক্রম চালুর জন্য মাননীয় আচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রংপুরের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের জেলা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা শাখার সমন্বয়ক তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।
গত ২ নভেম্বর থেকে শিক্ষক সমিতি ২৭ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবি জানিয়ে অসহযোগিতার আন্দোলনের ডাক দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা মেরে দেয়। এরপর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলন শুরু হয়। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনরত সমন্বিত অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যসচিব পরিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি।’ শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদেরই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে শিক্ষাসচিবসহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন