চা-বাগানে দুটি অজগর ধরে মেরে ফেলা হচ্ছে। গত রোববার রাত আটটায় এমন খবর পেয়ে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তাঁরা। উদ্ধার করেন অজগর দুটিকে। সাপ দুটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন। বড়টির লেজে জখম বেশি। রাতেই অজগর দুটিকে ভর্তি করা হয় ভেটেরিনারি ক্লিনিকে। চলে অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা। পুরো রাত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসক আশঙ্কামুক্ত বলে জানালে অজগর দুটি বনে ফিরিয়ে দিতে সিলেট নগরের টিলাগড় ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অজগর দুটিকে বাঁচিয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী অধিকারবিষয়ক সংগঠন প্রাধিকারের সদস্যরা।
প্রাধিকার জানায়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দলদলি চা-বাগানের ঘাসের আড়ালে ছিল সাপ দুটি। গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ঘাস কাটতে গিয়ে অজগর দুটিকে দেখে চা-শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোঁটা নিয়ে চলে সাপ তাড়ানোর চেষ্টা। ঘণ্টা দুয়েকের এ চেষ্টায় সাপ দুটিকে পিটিয়ে জখম করে শেষে ধরা হয়। পরে চা-শ্রমিক সুবেন দাস ও মনা দাসের কাছ থেকে অজগর দুটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন প্রাধিকারের সদস্যরা।
প্রাধিকারের সভাপতি আকাশ খাশনবীশ প্রথম আলোকে জানান, দুটি অজগরের মধ্যে বড়টি প্রায় ১৫ ফুট লম্বা। ছোটটি ১০ ফুট। ধরতে গিয়ে দুটি অজগরই নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে বড়টির লেজে আঘাতের চিহ্ন বেশি দেখে রাত ১০টার দিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক মতিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতে এক দফা অস্ত্রোপচার শেষে গতকাল সকাল থেকে দুটি অজগরকে সুস্থ দেখায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ ও কিছু ওষুধপত্র দিয়ে টিলাগড় ইকোপার্কে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অজগর দুটিকে আরও দুদিন পর্যবেক্ষণে রেখে বনে ছাড়া হবে জানিয়ে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা চয়নব্রত চৌধুরী বলেন, দুটি অজগরই পরিণত বয়সের। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক উদ্যোগে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল অজগর দুটি।
টিলাগড় ইকোপার্কে রাখা অজগর দুটির খাবারের জন্য দুটি মোরগছানা দিয়েছেন প্রাণী ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’ সিলেটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর। তিনি জানান, অজগর বিষাক্ত কোনো সাপ নয়। এর পরও অজগরকে নিয়ে অমূলক ভয় মানুষের মধ্যে। এ ভয় থেকে চলে সাপের ওপর নানা রকম আক্রমণ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন