বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে জান্নাতুল। সে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। তার মতো যারা এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের অনেকেই মনে করে, ‘অটোপাসের’ চেয়ে পরীক্ষা হওয়া ভালো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের সাড়ে আট মাস পর আজ রোববার সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষাও হচ্ছে ভিন্নভাবে। এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে না। শুধু গ্রুপভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি) তিনটি বিষয়ে সময় ও নম্বর কমিয়ে এই পরীক্ষা হচ্ছে। আবশ্যিক ও চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। এসব বিষয়ে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ‘ম্যাপিং’ করে নম্বর দেওয়া হবে।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এই প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় বসল শিক্ষার্থীরা। সবশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়েছিল। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২২ লাখের বেশি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা হওয়ার পরের মাসে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এখন এসএসসি/সমমানের পরীক্ষা দিয়ে আবার দেশে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলো। এ পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ নভেম্বর।

দীর্ঘদিন পর পরীক্ষায় বসায় কোনো কোনো পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুরুতে একধরনের ভয় কাজ করে। মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী জেসি খানের কথায় তেমনটাই বোঝা গেল। পরীক্ষা শেষে সে প্রথম আলোর জিজ্ঞাসার জবাবে বলে, ‘পরীক্ষা শুরুর আগে কিছুটা নার্ভাস লাগছিল। মনে ভয় কাজ করছিল। এ জন্য শুরুতে লেখায় কিছুটা ধীরগতি ছিল। তবে পরে ভয়ভীতি কেটে যায়।’

ভয় ছাপিয়ে পরীক্ষা দিতে পারায় ভালো লাগার কথা ঘুরেফিরে আসে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে যাচ্ছিল উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ইফতি চৌধুরী। সে বলল, তার পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে।

মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী নুসরাত সুলতানা বলল, পরীক্ষা দিতে পেরে তার ভালো লাগছে।

অভিভাবকদের ভিড়

পরীক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার হলে, তখন বাইরে অভিভাবকেরা ভিড় করে অপেক্ষায় ছিলেন। বিশেষ করে পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে এই ভিড় বেড়ে যায়। এ বিষয়ে রাজধানীর হাতিরপুল থেকে আসা মনিরুল আলম খান নামের এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্র মেয়ের অপরিচিত। তাই তার সঙ্গে এসেছেন তিনি। আবার পরীক্ষা শেষে নিয়ে যাবেন বলে এভাবে অপেক্ষা করছেন। তাঁর পরামর্শ, যদি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র করে শুধু পরিদর্শক শিক্ষকদের অন্য বিদ্যালয় থেকে আনা হতো তাহলে ভালো হতো।

ভিড় না করতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধ

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সকালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় করার প্রসঙ্গে টেনে বলেন, সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা একটু যেখানে হচ্ছে, তা হলো বাইরে অভিভাবকেরা ভিড় করেছেন। তাঁরা হয়তো স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে মানছেন না। তাই আবার অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, তাঁরা যেন বাইরে ভিড় না করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা বরাবরের মতো আছে, থাকবে। কেউ যেন গুজবে কোনোভাবেই কান না দেন। যারা গুজব ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী বছরের পরীক্ষাও ফেব্রুয়ারি-মার্চে হচ্ছে না

সাধারণত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা হয়। কিন্তু করোনার সংক্রমণের কারণে পুরো শিক্ষাপঞ্জিই এলোমেলো হয়ে আছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের সাড়ে আট মাস পর। আগামী বছরের পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ে হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, ২০২২ সালের পরীক্ষা হয়তো আগের তারিখে নেওয়া যাবে না। তবে তিনি আশা করছেন, এবার যত দেরি হয়েছে, তত দেরি হবে না। পরীক্ষা একেবারে ফেব্রুয়ারি-মার্চে বোধ হয় নেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি শেষ করার জন্য একটা সময় দিতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষা পেছালে স্বাভাবিকভাবে আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষাও পেছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন