অনলাইন জন্মনিবন্ধন বন্ধ ভোটার হতে বিপত্তি

বিজ্ঞাপন
default-image

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হলেও তরুণ-তরুণীদের অনেকেই ভোটার হতে পারছেন না। জন্মনিবন্ধন সনদের অনলাইন সার্ভার বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে প্রতারকচক্র ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে প্রতিজন থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১০ জুন থেকে পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায় ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে পেকুয়ায় ১১ জন সুপারভাইজার ও ৫৭ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটার হতে অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে অবশ্যই অনলাইন জন্মনিবন্ধন লাগবে। এ ক্ষেত্রে হাতে লেখা জন্মনিবন্ধনও গ্রহণযোগ্য হবে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে টেকনাফ-উখিয়ায় রোহিঙ্গা আসা শুরু হয়। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ তুলে নানা কাজে ব্যবহার করতে পারে—এই সন্দেহে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) জ্যোতির্ময় বর্মন এক স্মারকমূলে জন্মসনদ প্রদান বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করেন। এরপরই কক্সবাজার জেলার ৭১ ইউপি ও চার পৌরসভায় বন্ধ হয়ে যায় অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম। দুই বছরের কাছাকাছি হলেও এখনো পর্যন্ত অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়নি।

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মহুরীপাড়ার বাসিন্দা আবু তালেব (২৮) বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সনদ অনলাইন করা না থাকায় ভোটার হওয়া যাচ্ছে না। অথচ অনেক আগে থেকেই হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন সনদ আমার কাছে রয়েছে। ইউপি কার্যালয় আমার জন্মনিবন্ধনটি অনলাইন করেনি।’

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মতব্বরপাড়ার গৃহবধূ জাকিয়াতুল বারী (২৩) বলেন, জন্মনিবন্ধনের অনলাইন সার্ভার বন্ধ থাকায় অনেকে প্রতারকচক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছে। প্রতিটি অনলাইন জন্মনিবন্ধনের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছেন তাঁরা।

ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির অভিযোগে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৭ জুন পেকুয়া চৌমুহনী থেকে আবু তৈয়ব, মো. হুমায়ুন ও মো. রকি নামের তিনজন কম্পিউটার অপারেটরকে আটক করা হয়। পরে এক মাস এলাকায় থাকবেন না—এমন মুচলেকা দিয়ে তাঁরা ছাড়া পান।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, কম্পিউটার অপারেটরদের সতর্ক করা হয়েছে এবং মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। অন্য এলাকার কম্পিউটার অপারেটরদেরও সতর্ক করা হয়েছে।

ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত প্রকল্পের শিলখালী ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও শিলখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, ‘যাঁরা ভোটার হতে আসছেন, তাঁদের বেশির ভাগের হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন সনদ রয়েছে। কিন্তু অনলাইন করা না থাকায় তাঁদের ভোটার করাতে পারছি না।’

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ‘অনলাইন জন্মনিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেওয়ার বিষয়ে এক সপ্তাহ আগেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন