default-image

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপে বন্ধ বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) মতো বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়েও রয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কি ভাবছে, কি তাদের যুক্তি- তা জানতে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ) ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজন করে এক অনলাইন বিতর্কের।

৬ জুন রাত ৮টায় বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় বিতর্কটি। 'উইসডম এক্সপো' শিরোনামে 'বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাস/শিক্ষার সম্ভাব্যতা' বিষয়ে বিতর্কে অংশ নেন দেশের ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি পদ্ধতির এ বিতর্কে ৮ বিতার্কিক ৪ দলে ভাগ হয়ে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন।

পক্ষ দল তাদের যুক্তিতে বলেন, সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীই কেবল অনলাইনে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী, যারা গ্রামে বা অনুন্নত অঞ্চলে থাকে, তাদের পক্ষে এ সুবিধা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটি এক ধরনের বৈষম্যর ব্যাপার তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, এই দুর্যোগে সবার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নেই। অনেকেই নানামুখী মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এমতাবস্থায় অনলাইনে লেখাপড়া তাদের জন্য আরো চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন বিতার্কিকেরা।

কিন্তু বিপক্ষ দলের যুক্তিও তুলে ধরে বিতার্কিকেরা বলেন, এ দীর্ঘ বন্ধে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার চর্চা থেকে বিচ্যুত হলে বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অথবা, পড়ালেখা থেকে আগ্রহও হারিয়ে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে তাই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা প্রয়োজন। একইসাথে, দীর্ঘ সময়ের জন্য পড়ালেখা থেমে থাকলে জীবনগঠনের ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়বেন। ক্যারিয়ার শুরু করতে তাদের আরো সময় লেগে যাবে, যা কাম্য নয়। তাই জীবনযাত্রার ধারাবাহিতা অব্যাহত রাখতে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে অনলাইনে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

বিতর্কের মডারেটর তামান্না রহমান বলেন, অনলাইন শিক্ষায় নানা বাধাবিপত্তি থাকলেও সেসব কাটিয়ে উঠে পড়ালেখার চর্চাকে আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে অনলাইন শিক্ষাক্রম সাজিয়ে তুলতে হবে আমাদের, যা ইতোমধ্যে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়ন করেছে। নিয়মিত ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রতিমাসে শিক্ষার্থীদের ৩০ জিবি ডাটা বিনামূল্যে সরবরাহ করছে এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিদ্যমান অসমতাকে দূর করছে।

বিতর্কে ওপেনিং সরকার পক্ষ অংশ নেন ইডিইউ ডিবেটিং সোসাইটির নওশাদ হাসনাইন জয় ও আইবিএ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির বায়েজিদ ইসলাম রাফি; ওপেনিং অপজিশনে অংশ নেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান ডিবেটিং সোসাইটির রাইসা রহমান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির অমিত সাহা; ক্লোজিং গভর্নমেন্ট প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আত্তিহারুল কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এফবিএস ডিবেটিং ক্লাবের রাশেদ রিয়াজ; এবং ক্লোজিং অপজিশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মুশফিকুর রহমান ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ডিবেটিং সোসাইটির জাহিন রাইদাহ অংশ নেন। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন