অপুষ্টির দেশে বিভক্ত পুষ্টিবিদেরা

বিজ্ঞাপন

পুষ্টি নিয়ে দেশে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। উভয় জোটেই দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদেরা রয়েছেন। অপুষ্টি দূর করতে সবার একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তাঁরা বিরোধে জড়িয়েছেন। এ মাসের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় পুষ্টি সম্মেলনে এই বিরোধ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুষ্টি নিয়ে কর্মরত ১০৮টি এনজিওর মধ্যে ৬২টি এনজিওর সমন্বয়ে একটি জোট ‘সিভিল সোসাইটি এলায়েন্স ফর সান, বাংলাদেশ’। ব্র্যাকের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটের সভাপতি রোকসানা হায়দার। বাকি ৪৪টি এনজিও নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর প্রোমোটিং নিউট্রিশন’ (বিসিএসএনপিএন)। এর চেয়ারপারসন অধ্যাপক এম কিউ কে তালুকদার।
জোট দুটির একাধিক সূত্র জানায়, নিউইয়র্কভিত্তিক পুষ্টি আন্দোলন স্কেলিং আপ নিউট্রিশনকে (সান) কেন্দ্র করে এই বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অপুষ্টির প্রকোপ বেশি এমন ৪১টি দেশ সানের সদস্য। জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে ২০১০ সালে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন ২৭ জন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদও রয়েছেন। এর মধ্যে ব্র্যাকের নেতৃত্বাধীন জোটটিকে অধিভুক্ত (অ্যাফিলিয়েটেড) নাগরিক সমাজের স্বীকৃতি দিয়েছে সান।
সানের কর্মকৌশলে ‘নাগরিক সমাজকে’ যুক্ত করার কথা বলা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে পুষ্টি নিয়ে কর্মরত নাগরিক সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে বিসিএসএনপিএনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং এনজেন্ডার হেলথের এ দেশি পরিচালক আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মৌলিক আদর্শগত পার্থক্য আছে। আমরা বিশ্বাস করি দেশি খাদ্য, শাক-সবজি, ফলমূল, ডাল এসব দিয়ে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব। আমরা পুষ্টিকণা বাজারজাতকরণের বিরোধী।’
অন্যদিকে ‘সিভিল সোসাইটি এলায়েন্স ফর সান, বাংলাদেশের সভাপতি রোকসানা হায়দার বলেন, ‘এ দেশের মানুষের কৃষ্টি, চর্চার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পুষ্টি উদ্যোগের সঙ্গে আমরাও একমত নই।’ তিনি দাবি করেন, তাঁরা সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চান।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটের পুষ্টিবিষয়ক বিশেষ সংখ্যায় পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার, এনজিও, দাতা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে একযোগে কাজ করার উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দুই পক্ষের সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি সফল হননি। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কে সানের ডাকা পুষ্টি সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করার জন্য বিসিএসএনপিএন প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটটির অন্যতম সংগঠক ও এমিনেন্সের নির্বাহী প্রধান শামীম তালুকদার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন