default-image

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই সংক্রমণ রোধে শেখ হাসিনা সরকার যে সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশের মানুষের জীবনের সুরক্ষার স্বার্থেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজ মঙ্গলবার সকালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এই সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতি জনগণের জন্য। করোনা দল চেনে না। সবাই এই ভাইরাসের শিকার হতে পারে। সুতরাং, করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে সরকারকে প্রয়োজনে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে সবাইকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও স্রষ্টার অপার কৃপায় নিশ্চয়ই আমরা সবাই এই সংকট কাটিয়ে উঠব।’

অবকাঠামো নির্মাণকাজ লকডাউনের নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতভাগ মাস্ক পরিধান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে সড়কে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাস্তা ফাঁকা থাকবে। তাই এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

সামনে বর্ষাকাল। তাই বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নির্মাণাধীন কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্ষার আগে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। যেসব প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, তার পেপার ওয়ার্ক এখনই শেষ করতে হবে। যেন শুকনা মৌসুম এলেই নির্মাণকাজ শুরু করা যায়।

বিজ্ঞাপন

বিগত কয়েক বছরে সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব কাজ আরও এগিয়ে নিতে হবে। ঢাকা-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটির বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এই প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলেও সম্প্রতি গতি পেয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালে বা কাজ শুরু হওয়ার আগে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার রাজনৈতিক নিপীড়নে বিশ্বাসী নয় বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার সব দল ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

সরকার নাকি বিএনপির নেতা-কর্মীদের হেফাজতের মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ দলটির। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এ অভিযোগ গতানুগতিক। এই অভিযোগ সত্য নয়। হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী যে তাণ্ডব চালিয়েছে, জনগণের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদে আগুন দিয়েছে, তা নিয়ে বিএনপি একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, অপরাধী কোনো দলের হতে পারে না। ধর্ম কখনো সহিংসতা উসকে দেয় না। যারা ধর্মের নামে স্বার্থ হাসিলের নোংরা রাজনীতি করছে, সম্পদ নষ্ট করছে, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ধরা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে, এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এমন অভিযোগ সত্যের অপলাপ।

মামলার আসামি ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের কোথায় হয়রানি করা হচ্ছে, তার তালিকা চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘ঢালাও অভিযোগ না করে স্পষ্ট প্রমাণ দিন।’

বিএনপিকে নাকি সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের দমন করছে, এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের এসব কথা শুনলে জনগণ হাসে। তারা অপরাজনীতি ও মিথ্যাচারকে রাজনীতি মনে করছে। জনগণের কল্যাণ থেকে দূরে সরে বিএনপি এখন সন্ত্রাস ও গুজব–নির্ভর রাজনীতির চর্চা করছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন