default-image

লীনা দিলরুবা গত ১৭-১৮ জানুয়ারির দিকে জানতে পারেন, তাঁর ছবিসহ একটি খবর ছাপা হয়েছে। সংবাদপত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোনো। আর্থিক খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও লীনা নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন। অনলাইন ও ছাপা পত্রিকার সাহিত্য পাতায় নিয়মিত তাঁর ছবিসহ লেখা আসে। খানিক পরেই অবশ্য ভুল ভাঙে লীনার।

আদতে অবন্তিকা বড়াল–সম্পর্কিত একটি খবরের সঙ্গে তাঁর ছবি ছাপা হয়েছে। এই অবন্তিকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের সহযোগী। পি কে হালদারের নাম এখন সবাই জানেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারেরও অভিযোগ আছে। মামলার তদন্তে অবন্তিকা বড়ালের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৫ জানুয়ারি।

অবন্তিকার খবরে লীনা দিলরুবা নিজের ছবি দেখে আঁতকে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই সংবাদপত্রে যোগাযোগ করেন। ছবিটি সরেও যায়। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন লীনা। তবে এই স্বস্তি যে সাময়িক, তা বুঝতে দেরি হয় না লীনার। দু-এক দিন বাদে এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলেন লীনা। হঠাৎ জানতে পারেন মার্কিনপ্রবাসী মিলি সুলতানা তাঁর ছবি দিয়ে অবন্তিকা বড়াল সম্পর্কে খবর পোস্ট দিয়েছেন। মিলির ফলোয়ার সংখ্যা লক্ষাধিক। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা মিলির সঙ্গে উপর্যুপরি যোগাযোগ করতে থাকেন, ততক্ষণে ওই পোস্ট লাইক-শেয়ারে সয়লাব। লীনা দিলরুবা তাঁকে অনুরোধ জানান দুঃখ প্রকাশ করে আরেকটি পোস্ট দিতে। এই ছবির কারণে তিনি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাও বলেন। জবাবে ইনবক্সে মিলি সুলতানা বলেন, ‘ছবিটি ব্যবহার করেছে একটা পত্রিকা। আমি সেখান থেকে নিয়েছি। আপনাকে চিনি না বলে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। আমি বিষয়টা যখনই জেনেছি, তখনই ছবি রিমুভ করেছি। এখানে অন্য কোনো ইনটেনশন ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

ছবিটি আপাতত সরল বটে। তবে বিপদ পিছু ছাড়ল না লেখক লীনা দিলরুবার। তিন থেকে চার দিন পর একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবরে অবন্তিকা বড়ালের বদলে তাঁর ছবি প্রচার করে। এই খবর আবার তিনি পান তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে।

বিরক্ত হয়ে এবার লীনা যান ধানমন্ডি থানায়। গত ২২ জানুয়ারি তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই ডায়েরিতে তিনি লেখেন, ‘বিডিনিউজ ২৪-এ আমি সাহিত্য পাতায় নিয়মিতভাবে লেখালেখি করি। সেখান থেকে আমার ছবি কপি করে বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যবহার করে আমার মান ক্ষুণ্ন করছে। তারা ভবিষ্যতে আমাকে আরও ক্ষতির মুখোমুখি করতে পারে—আশঙ্কায় বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরি করা প্রয়োজন বলে অনুভব করছি।’

দিন পনেরো আগে আবারও একটি দৈনিকে অবন্তিকা বড়ালের ছবি হিসেবে তাঁর ছবি ব্যবহার হয়। তাঁর ভাই এই খবর জানান তাঁকে। যে পত্রিকায় ভুলটি হলো, সে পত্রিকাতেও নিয়মিত লেখেন লীনা। প্রথমেই সাহিত্য সম্পাদককে ফোন করেন তিনি। পরে সংবাদ ব্যবস্থাপকেরা তাঁর ছবি সরিয়ে নেন।

লীনা প্রথম আলোকে বলেন, মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোয় তিনি ও তাঁর লেখক বন্ধুরা যোগাযোগ করে ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছেন। এখন সমস্যা অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিয়ে। ‘নামসর্বস্ব এই পোর্টালগুলো’ লীনার ভাষায় তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

কেন এই ঘটনাটা ঘটল, কী মনে হয়—লীনার কাছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবন্তিকা গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে নেওয়ার খবর যেদিন ছাপা হয়, ওই দিন একটি অনলাইন পত্রিকায় জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে তাঁর একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। খবর দুটি পাশাপাশি ছিল। ভুলবশত কেউ একজন অবন্তিকার পরিবর্তে তাঁর ছবিটি ওই অনলাইন পত্রিকা থেকে নেন। তারপরই একে একে অনেকেই একই ভুল করে বসেন। লীনা আরও বলেন, ‘এই সমস্যা আর সহ্য হচ্ছে না। একটা মিথ্যা বারবার বলতে বলতে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়। ছবির বিভ্রাটে নানামুখী সংকটে পড়ে গেছি আমি। আমি এবার মুক্তি চাই।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন