টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর নির্মাণাধীন ‘ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’-এর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ কাজের সঙ্গে জড়িত প্রায় তিন হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুল করিম বলেন, প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ সময়মতো শেষ হবে না। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়বে যমুনার তীর এলাকার মানুষ।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, যমুনা নদীর ভাঙনরোধে দুই মাস আগে থেকে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে বগুড়া পাউবো। ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রাম থেকে শহড়াবাড়ী পর্যন্ত ৮০০ মিটার প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। চারটি গ্রুপে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাজের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ কাজ পেয়েছে মেসার্স শাহরিয়ার ও শহর আলী কনস্ট্রাকশন নামে বগুড়ার দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাথর, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসি ব্লক। সেই সঙ্গে নদীভাঙনের স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজও চলছিল। এখন হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় পাথর ও সিমেন্ট আনছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাঁচামাল সংকটে দুই সপ্তাহ ধরে প্রকল্পের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বর্ষার আগে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকেরা।
শহড়াবাড়ী গ্রামের শ্রমিক আবদুস সামাদ বলেন, ‘আমরা নদী ভাংড়ি (ভাঙনকবলিত) মানুষ। এহেনে কাজ কাম কইরা কয়ডা টেহা কামাই করে পোলা-মাইয়া নিয়া সংসার চালাইছি। এহোন কাজকাম বন্ধ হওয়ায় না খাইয়া মরতে হবানছে। হরতালের কারণে কামের লাইগা বাইরে যাইতেও পারিনছি না।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহরিয়ারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, ‘সিসি ব্লক তৈরির জন্য পঞ্চগড় জেলা থেকে পাথর কিনে আনতে হয়। সিমেন্ট ও জিও ব্যাগ আনতে হয় ঢাকা থেকে। এতে টানা অবরোধ-হরতালের কারণে নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে করে আনতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাউবোর বগুড়া কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল মোত্তালেব বলেন, মালামাল সংগ্রহের ব্যবস্থা করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন