অবরোধ-হরতালে সড়ক ও রেলপথে যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অনেকেরই ভরসা এখন আকাশপথ। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাত্রাপথে বিমানের টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগে কিছু বিমান সংস্থা টিকিটের দাম নিয়ে কারসাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৬ জানুয়ারি অবরোধ শুরু হওয়ার পর নাশকতার কারণে রেল ও সড়কপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে বিমাননির্ভর হয়ে পড়েছেন অনেকে। উচ্চবিত্তের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে মধ্যবিত্তরাও বিমানমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। অবরোধ-হরতালের আগে চট্টগ্রাম-ঢাকা যাত্রাপথে প্রতিদিন গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হতো। এখন ৯৫ থেকে শতভাগ। চট্টগ্রাম থেকে অন্য কোনো যাত্রাপথে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল করে না।
জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৩টি বেসরকারি বিমান ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলে। এর বাইরে বাংলাদেশ বিমানও চলাচল করে। তবে তা নিয়মিত নয়। বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো চট্টগ্রামে যাত্রী নামানোর পর খালি আসনগুলোতে ঢাকার যাত্রী তুলে নেয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার যাত্রী ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাওয়া-আসা করতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে বিমান টিকিট সহজলভ্য হলেও অবরোধ-হরতাল শুরু হওয়ার পর থেকে টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ারের নির্বাহী কর্মকর্তা (বিক্রয়) মো. সাকিব আজিজ বলেন, ‘অবরোধের কারণে এখন আমরা চাহিদা অনুযায়ী টিকিট দিতে পারছি না। কোনো বিমান খালি যাচ্ছে না। সব এয়ারলাইনসের একই অবস্থা।’
জানা গেছে, নভোএয়ারের চট্টগ্রাম-ঢাকা যাত্রাপথে প্রতিদিন পাঁচটি বিমান যাওয়া-আসা করে। রিজেন্ট এয়ারের দুটি বড় এবং একটি ছোট বিমান, ইউএস বাংলার চারটি, ইউনাইটেডের একটি বিমান প্রতিদিন চলে। এই সুযোগে অনেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নভোএয়ারের সাকিব আজিজ বলেন, ‘চাহিদা বাড়ায় অনেকে বিমান টিকিটের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা এটি করি না।’
নভোএয়ারের সর্বনিম্ন একমুখী ভাড়া ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এই সংস্থার বিজনেস ক্লাসের টিকিটের দাম ৭ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে ইউএস বাংলার ভাড়া সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা হলেও এ টিকিট ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রিজেন্ট এয়ারের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪ হাজার টাকা হলেও তা সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে বলে জানা গেছে। ইউএস ও রিজেন্টের বিজনেস শ্রেণির প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৮ হাজার টাকা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএস বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (বিক্রয়) ফারজানা আফরোজ বলেন, ‘এখন টিকিটের সংকট আছে। আমাদের যে টিকিট চার হাজার টাকা, সেটি ক্ষেত্র বিশেষে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। কারণ আমরা টিকিট দিতে পারছি না।’
ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিজেন্ট এয়ারের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শুভ্র কান্তি সেন বলেন, ‘এখন আমি ব্যস্ত আছি। এ ব্যাপারে কথা বলতে পারব না।’
বিমানের বিক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বাতেন মোল্লা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আমাদের নিয়মিত কোনো বিমান নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিমানগুলো চট্টগ্রামে যাত্রী নামানোর পর শূন্য আসনগুলোতে আমরা চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে যাই।’ তিনি বলেন, তাঁরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন