টানা অবরোধ ও হরতালে বিপদে আছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মৎস্যশিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় এ ব্যবসায় ধস নেমেছে। কাজ না থাকায় মাছের খামারশ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন।

টানা অবরোধ ও হরতালে এক মাসের বেশি সময়ে উপজেলার মৎস্য খাতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মাছচাষি ও ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

হ্যাচারির মালিক মতিউর রহমান বলেন, অবরোধ শুরুর পর থেকে তাঁর হ্যাচারি থেকে মাছ বিক্রি প্রায় বন্ধ। আগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা এখানে এসে মাছ নিয়ে যেতেন। এখন তাঁরা আর আসতে পারছেন না। এ অবস্থায় হ্যাচারির প্রায় ৩০ জন শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। কাজ কমে যাওয়ায় অনেককে বাদ দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, মাছ বিক্রি না হলেও প্রতিদিন মাছের খাবার দিতেই প্রচুর টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি নিজে লোকসানে আছেন।

খুচরা মাছ বিক্রেতা আবদুস সামাদ বলেন, প্রতিদিন তিনি পাতিলে মাছ নিয়ে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় যেতেন। বাসে চড়েই যাতায়াত করতেন তিনি। হরতাল-অবরোধে তাঁর ব্যবসা একেবারে বন্ধ। তিনি বলেন, তাঁর মতো হাজারো ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীর একই অবস্থা।

পুকুরমালিক মোজাফফর হোসেন বলেন, হরতালের কারণে অন্যত্র মাছ পাঠাতে না পারায় দাম কমে গেছে। তাই মাছ উৎপাদন ও বেচাকেনায় ধস নেমেছে।

উপজেলা মাছচাষি সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আদমদীঘি বাজারে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হতো। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যেত এসব মাছ। অবরোধ-হরতালে সব বন্ধ। এক মাসের বেশি সময়ে উপজেলার মৎস্য খাতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে মাছ চাষ ও বিক্রির সঙ্গে ৫ হাজারের বেশি মানুষ জড়িত। উপজেলায় ৫১৬টি খাস ও ৫ হাজার ৯২৬টি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। এগুলোর মোট আয়তন ১ হাজার ২৪৮ হেক্টর। বেসরকারি পর্যায়ে ৪৯টি এবং একটি সরকারি হ্যাচারি রয়েছে। উপজেলায় প্রতিবছর ৩৭ হাজার ৭৭০ কেজি রেণু ও ১১ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন বড় জাতের মাছ উৎপাদিত হয়। এ উপজেলায় উৎপাদিত রেণু ও মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হয়।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার কুণ্ডু বলেন, অন্য খাদ্যদ্রব্যের মতো মাছ পরিবহনও হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখা দরকার।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন