টানা অবরোধ ও মাঝেমধ্যে হরতালের পরও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেগুনচাষিদের মুখে এখন খুশির হাসি। তাঁরা প্রতি মণ বেগুন এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এলাকার কয়েকজন বেগুনচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও প্রতি মণ বেগুনের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। কিন্তু সেই বেগুন এখন এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন তাঁরা দাম বেশি তো পাচ্ছেনই, এমনকি বাজারে বেগুন নিয়ে যাওয়ার ঝামেলাও হচ্ছে না। উল্টো খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারেরাই বেগুন কিনতে চাষিদের খেতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
গতকাল রোববার কথা হয় উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের বেগুনচাষি সোহরাব আলীর সঙ্গে। এ সময় তিনি নিজ খেত পরিচর্যা করছিলেন। অবরোধ-হরতালে আলুসহ বিভিন্ন সবজির দাম তো কম। বেগুনের কী অবস্থা? প্রশ্ন করতেই তাকালেন এক ফালি হাসি মুখে। তারপর খোশমেজাজে একটি বেগুন দেখাতে দেখাতে বললেন, ‘অন্য সবজি আবাদ কর্যাি এবার মহা লোকসান। কিন্তু বেগুন হামাকেরে মুখোত হাসি অ্যানা দিচে।’
কুড়াহার গ্রামের চাষি খালিদ হোসেন এবার ২০ শতক জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। নয় হাজার ৮০০ টাকা খরচ করে ওই জমিতে বেগুন পেয়েছেন ২৬ মণ। প্রতি মণ বেগুন তিনি ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করছেন। একই গ্রামের চাষি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘হামি দাম পাইনা জন্যি ইচ্ছা কর্যাণই বেগুনের চাষ করিনি। কিন্তু অবহেলার সেই বেগুনই একন অ্যাসা কৃষকদের পসা দিলো।’
মহাস্থান সবজিবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অবরোধ-হরতালের শুরুর দিকে বেগুনের দাম কমে গিয়েছিল। তখন বেগুনচাষিদের তেমন লাভ হয়নি। এখন সে বেগুনের দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। মূলত বাজারে বেগুনের জোগানের ঘাটতি দেখা দেওয়াতে দাম এভাবে বেড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এজাজ কামাল প্রথম আলোকে জানান, সাধারণত উপজেলার ২০০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে কম। আর এখন মৌসুমের শেষ সময়। তাই বেগুনের দাম এভাবে চড়েছে। ফলে যাঁরা বেগুনের আবাদ করে এখনো খেত ধরে রাখতে পেরেছেন, তাঁরা অনেক লাভবান হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন