লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কারণে দেশের অন্য পর্যটন এলাকার মতো সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জেও পর্যটক আসছে না। ফলে এলাকার পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল পাঁচ শতাধিক পরিবারের প্রায় তিন হাজার সদস্য অভাবে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি এক বিকেলে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কলাগাছিয়া এলাকায় গিয়ে একজন পর্যটকও দেখা যায়নি। ফাঁকা পড়ে রয়েছে পুরো এলাকা। এলাকাটি এতই নীরব যে দর্শনার্থীদের হাঁটা-চলার রাস্তাতেও বাঁদর ও পাখি বিচরণ করছে। এদিকে বুড়িগোয়ালিনী নদীর ঘাটে বাঁধা রয়েছে অর্ধশতাধিক ট্রলার। অবরোধের শুরু থেকে এগুলো ভাড়া হচ্ছে না।

সুন্দরবনে ভ্রমণের গাইড হিসেবে কাজ করেন সালাউদ্দিন। তাঁর নিজেরও রয়েছে একটি বড় ট্রলার। তিনি এই প্রতিবেদককে বললেন, এ মৌসুমে আয় করে সারা বছর চলতে হয়। নভেম্বর থেকে মৌসুম শুরু হলেও মূলত বেশি পর্যটক আসেন জানুয়ারি মাসে। কিন্তু জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে অবরোধের কারণে কেউ আসছেন না। ফলে তিনিসহ অনেকে বেকার।

রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় তিন হাজার পর্যটক এসেছিল। কিন্তু জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখের পর হাতে গোনা কয়েকজন স্থানীয় দর্শনার্থী এসেছেন। বাইরে থেকে কেউ আসেননি। তাই পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত গাইড, ট্রলার চালক ও শ্রমিকসহ অন্যদের প্রায় পাঁচ শ পরিবার অর্থ সংকটে পড়েছে।

শ্যামনগর আতরজান কলেজের অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহি বলেন, শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। লোকালয় থেকে সরাসরি সুন্দরবন দেখা যায়।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা যায়, সারা বছর পর্যটক আসে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুন্সিগঞ্জ ও কলাগাছিয়ায়। বিশেষ করে কলাগাছিয়ায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলায় এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ—এ পাঁচ মাস দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকে বেশি। এ সময় কলাগাছিয়া ও দোঁবেকি ছাড়াও মুন্সিগঞ্জ, মান্দারবেড়িয়া, পুষ্পকাঠি ও নোটাবেকি এলাকায় পর্যটকেরা আসেন।

শ্যামনগর ট্রলার মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম জানান, শুধু বুড়িগোয়ালিনীতেই ভ্রমণের কাজে নিয়োজিত থাকে ৯০টি ট্রলার। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জ ও ভেটখালী এলাকায় রয়েছে আরও শতাধিক ট্রলার। রয়েছে কয়েকটি ছোট-বড় লঞ্চ। অবরোধের কারণে পর্যটকেরা আসছেন না। তাই ট্রলারচালক ও শ্রমিক সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত বরষা ট্যুরিজম ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, তাঁদের রির্সোটের ২০টি কক্ষই খালি পড়ে রয়েছে। এখন কোনো বুকিংও (বরাদ্দ করা) নেই। এ মাসে ২৫টি বুকিং ছিল কিন্তু অবরোধের কারণে সব বাতিল হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন