লিখিত বক্তব্যে জোটের মহাসচিব ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত বছর বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিলেন নারী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতন ও শোষণের শিকার হন তাঁরা। এই নারী কর্মীদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে কম মজুরি। নিয়োগকর্তা ও সহকর্মীর কাছে যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন তাঁদের অনেকে। দেশে ফিরেও সামাজিক নিগ্রহের শিকার হন তাঁরা। গ্রামের নারীদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দারিদ্র্য, সহিংসতা, নির্যাতন, অসমতা, বেকারত্ব ও কর্মহীনতা থেকে মুক্তির বিকল্প হিসেবে তাঁরা এটি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, একজন পড়াশোনা না জানা নারী গ্রাম থেকে সরাসরি বিদেশে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। এই নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ করা উচিত। অন্তত কিছুটা পড়াশোনা জানলেও তাঁরা বিদেশে গিয়ে সহজে খাপ খাওয়াতে পারবেন।

এ সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, দেশের অর্ধেক জনশক্তি নারী। তাঁদের কাজে লাগানো সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে। গত ১৩ বছরে যতটা নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, অভিবাসনে ততটা হয়নি। বিদেশে ভাষাগত সমস্যা একটি বড় বিষয়। কর্মীদের দক্ষ করে পাঠাতে হবে। সমস্যা সমাধানে সরকার যথেষ্ট সোচ্চার।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, পরিবারকে সহায়তা করতে ঝুঁকি নিয়েই নারীরা বিদেশে যান। অনেক নারী সহিংসতার শিকার হয়ে ফিরে আসছেন। ফিরেও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। এ খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা না গেলে নারীর অভিবাসন প্রসার লাভ করবে না। নারীর অভিবাসন বন্ধ হোক, এটা কখনোই কাম্য নয়।

নারী অভিবাসীদের সম্মিলিত কণ্ঠ নামক জোটের চেয়ার ইশরাত শামীম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বিদেশে গৃহকর্মী খাতের বাইরে নারীরা কেন যাচ্ছেন না, এটি খুঁজে বের করতে হবে। নারীদের জন্য অন্য খাতেও সুযোগ তৈরি করতে হবে।

দক্ষ গৃহকর্মী তৈরি করে ফিলিপাইন সফলতা দেখিয়েছে, এটিও ভাবতে হবে সবাইকে।
অনুষ্ঠানে এ জোটের সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নয়নশীল দেশে নারীর ক্ষমতায়নে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার একটি উদ্যোগ হলো উইমেন্স ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ। এ লক্ষ্য পূরণে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বিভিন্ন নারী অধিকার সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে কাজ করে। নতুন এ জোটের সব কাজ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হবে। আর জোটের সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জানান জোটের কো–চেয়ার রুবিনা হুসেইন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন