সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রাকে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রির্সাস ইউনিট (রামরু)। এটি ঠেকাতে না পারলে বৈধ পথে অভিবাসন আরও সংকটে পড়বে বলেও মনে করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

আজ রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশ হতে আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন-২০১৪: অর্জন এবং চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রামরুর চেয়ারপারসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।
এর আগে ২০১২ ও ২০১৩ সালের প্রতিবেদন দেওয়ার সময়ও রামরু এ ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ২০১৪ সালের পুরো সময়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে কার্গোর ভেতরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে অনুসন্ধান না চালালে এটিও ভয়ংকর আকার ধারণ করবে।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ২০১৩ সালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী কল্যাণ আইন হয়েছে। এরপর ২০১৪ সালে ব্যাপক অবৈধ অভিবাসনের ঘটনা ঘটেছে সমুদ্রপথে। কিন্তু এই আইনের অধীনে এখন পর্যন্ত একটা মামলাও হয়নি। রামরু এ বিষয়ে একটি রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাসনিম সিদ্দিকী আরও বলেন, ২০১৪ সালে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নারী অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ায় আগের বছরের চেয়ে মোট অভিবাসন মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ২০১২ সালের তুলনায় এটি ৩২ শতাংশ কম। তবে এ বছরও নতুন শ্রমবাজার হয়নি। সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় এ বছর মাত্র পাঁচ হাজার ১৯১ জন কর্মী গেছেন। সৌদি আরবের বাজারের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই। এ বছরের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী-আয় এসেছে।
ফিরে আসা কর্মীদের বিষয়ে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবছর কতজন ফিরে আসছেন, সে ব্যাপারে এখনো সরকার কোনো তথ্য রাখতে পারছে না। বরাবরের মতোই বাংলাদেশিদের অন্য দেশের কর্মীদের চেয়ে সাত গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী কল্যাণ আইনের অসাম্যঞ্জস্য দূর করা, এ আইন সম্পর্কে অভিবাসী কর্মী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নারী অভিবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু, সেফ হোম, শ্রম কর্মকর্তাদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাডারসহ নানা সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রামরুর কর্মসূচি কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিনা রায়, রামরুর কর্মকর্তা আনসার উদ্দিন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন