ঘটনাটি ২০১৩ সালে ২৫ অক্টোবরের। কক্সবাজারের চকরিয়া চিরিঙ্গা এলাকায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। নিহত হন সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশা (২৮) ও মো. মিজানুর রহমান (১৬) নামের দুই ব্যক্তি। বিএনপির দাবি, বাদশা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিজানুর বিএনপির সমর্থক।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করে পুলিশ। এই দুটি মামলার অভিযোগপত্রে (চাজশির্ট) অভিযুক্ত করা হয় বিএনপির ৪৬ নেতা-কর্মীকেই। সম্প্রতি অভিযোগপত্রের কপি হাতে এলে এই তথ্য জানা যায়।
একইভাবে কক্সবাজারে রাজনৈতিক সহিংসতার আরও তিনটি মামলায় পুলিশ জামায়াত-বিএনপির ৩২০ জন নেতা-কর্মীকে অিভযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকে উচ্চ আদালত থেকে জমিন নিয়েছেন।
চকরিয়া থানার পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৩ মে সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পুলিশ আদালতে দাখিল করে। এতে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এনামুল হক, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দিন ফরায়েজীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৪৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। একইভাবে মো. মিজানুর রহমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও বিএনপির ওই ৪৬ নেতা-কর্মীকে আসামি দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাছির উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ প্রসঙ্গে নিহত সাইফুল ইসলামের বাবা মোকতার আহমদ বলেন, ‘এসব বিচারের নামে প্রহসন। শুনেছি বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। অথচ আসামি করা হয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের। এই বিচার আল্লাহ করবে।’
নিহত মিজানুরের মা নুরুজাহান বেগম (৪০) বলেন, ‘আমি তো কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি। আসামি কে, তা–ও জানি না।’
দুটি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম হায়দার বলেন, বিজিবি-পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিএনপির দুই নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে পুলিশ হাস্যকর চার্জশিট দিয়েছে। বিএনপির কর্মীদের হত্যা মামলাগুলোয় আসামি করা হচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের। তবে তিনিসহ সব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন বলে জানান।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম জানান, বিএনপির সন্ত্রাসীদের গুলিতেই দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মতিউল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ১৫ ফেরুয়ারি শহরের রুমালিরছড়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের একাধিক সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত হন পুলিশের সাত সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি। এই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি (হত্যা, পুলিশের পর আক্রমণ ও বিস্ফোরক) মামলা করে। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৭৪ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক তিনটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জি এম রহিমুল্লাহ, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহ বাহাদুর, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরএসওয়ের সাবেক সামরিক কমান্ডার সালাউল ইসলাম, সদর উপজেলার ঝিলাংজা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গফুর, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আহমদ আনোয়ারী, বিএনপির নেতা আবদুল মান্নান, রাশেদুল করিমসহ ২৭৪ জন।
সরওয়ার কামাল বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি অসুস্থ ছিলাম। হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার সব কাগজ পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করা হলেও হয়রানির জন্য চার্জশিটে আমার নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন