অভ্যন্তরীণ সব গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল থেকে অভ্যন্তরীণ আরও পাঁচটি গন্তব্য—কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশালে যাত্রীপরিবহন শুরু করবে বিমান। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের বর্তমান ফ্লাইট-সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
বিমানের মুখপাত্র মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ৬ এপ্রিল থেকে সপ্তাহে কক্সবাজারে ছয়টি, যশোরে পাঁচটি, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে তিনটি করে এবং বরিশালে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটে বর্তমানে পরিচালিত ফ্লাইট-সংখ্যার অতিরিক্ত ২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমানের মুখপাত্র জানান, এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ফ্লাইটসূচিতে সপ্তাহে ১২০টির অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এ ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে আসনসংখ্যা ৮০ শতাংশের বেশি বাড়বে অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে ১৪ হাজার ১০ জন করে যাত্রী অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে বিমানের পরিষেবা পাবেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ফ্লাইটসূচি অনুযায়ী যাত্রীরা টিকিট কিনতে পারবেন। ভাড়ার বিন্যাস ও হার তখনই প্রকাশ করা হবে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মিসরের স্মার্ট এভিয়েশন থেকে দুটি ডেশ-৮ উড়োজাহাজ পাঁচ বছরের জন্য ভাড়ায় আনা হচ্ছে। এ জন্য গত বুধবার স্মার্ট এভিয়েশনের সঙ্গে বিমানের চুক্তি হয়েছে। প্রতিটিতে ৭৪ আসনের উড়োজাহাজ দুটি মার্চের শেষ দিকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।
বিমানের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কায়েল হেয়্যুড এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে আরও নতুন গন্তব্য যুক্ত হলে ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের উপকার হবে। তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে বিমানের আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।
লোকসান ও উড়োজাহাজের অভাবে কয়েক বছর ধরে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটগুলো বন্ধ। সর্বশেষ ২০১১ সালে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামের পথে বিমান যাত্রী পরিবহন করলেও সেসব ফ্লাইট চালানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংযোগ হিসেবে। গত বছরের নভেম্বরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন জন স্টিল।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন