অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রগতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক প্রগতি হলেই মানবিক প্রগতির জন্য অর্থ পাওয়া যায়। মানবিক প্রগতির অন্যতম খাত হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। সরকারকেই এ দুই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল সোমবার নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক প্রগতি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, মানবিক প্রগতি হলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক প্রগতিও বাড়ে।
বিশ্ববরেণ্য এই চিন্তাবিদ বলেন, ‘মানবিক প্রগতির জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ থাকা দরকার। সর্বশিক্ষা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা সরকারি বিনিয়োগ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগে হয়েছে—পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের মাধ্যমে দরিদ্র লোকের স্বাস্থ্য, শিক্ষা দেওয়া যাবে, তা ভীষণ দিগ্ভ্রম। বেসরকারি খাত দিয়ে এটা করানো অর্থনৈতিক চিন্তার ভ্রম।’
ড. সেন আরও বলেন, মানবিক প্রগতির সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রগতির দ্বন্দ্ব রয়েছে। মানবিক প্রগতির অভাবে অর্থনৈতিক প্রগতি থেমে থাকতে পারে। আমার মনে হয়, ভারতের এখনকার সমস্যা এটাই। তবে জাতির বিশাল অংশকে স্বাস্থ্যহীন, শিক্ষাহীন রেখে অর্থনৈতিক প্রগতি নিয়ে বহুদিন ধরে টিকে আছে ভারত।
রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার অসংখ্য মানুষ জড়ো হন। প্রথম আলো ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। উপলক্ষ ছিল অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের ভারত: উন্নয়ন ও বঞ্চনা শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা। বইটি তাঁর ও জঁ দ্রেজের যৌথভাবে লেখা অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইটস কন্ট্রাডিকশন্স-এর সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলা ভাষান্তর।

default-image

বক্তৃতায় অমর্ত্য সেন বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গবৈষম্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের বড় কৃতিত্ব। গত তিন-চার দশকে এসব মানবিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিশাল পার্থক্য হয়েছে। তবে ভারতে এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রগতি হয়েছে বলে মত দেন তিনি।
বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের মাথাপিছু আয় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। এখন তা বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়েছে। এটা ভারতের অর্থনৈতিক প্রগতি। তবে ১৯৯০ সালে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু তিন বছর কম ছিল। এখন ভারতের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু তিন বছর বেশি। নব্বইয়ের দশকে শিশুমৃত্যুর হার বাংলাদেশে বেশি ছিল। এখন ভারতের চেয়ে কম। আবার সেই সময়ে কন্যাশিশুদের স্কুলে যাওয়ার হার দুই দেশের মধ্যে প্রায় সমান ছিল। এখন বাংলাদেশে বেশি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
বাঁশির সুরে অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা সাড়ে তিনটায়। দর্শকদের ভিড়ের কারণে মিলনায়তনের বাইরে ও দোতলায় তাঁর বক্তব্য শোনার বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পছন্দ করেন ড. সেন। তাঁর গান শুনে অমর্ত্য সেন যেমন খুশি, তেমনি তাঁর সম্মানে তিনটি রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন বন্যা।
গানের পর একক বক্তৃতায় মানবিক প্রগতির সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রগতির সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ভারতের কেরালা রাজ্যের উদাহরণ দেন অমর্ত্য সেন। ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া এই অর্থনীতিবিদ জানান, কেরালা এখন ভারতের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা রাজ্য। তবে বহু আগে থেকেই কেরালা শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। ১৮১৬ সালে কেরালার ১৮ বছর বয়সী এক রানি শিক্ষার প্রসারে একটি প্রগতিশীল বিবৃতি দিয়েছিলেন। তখন কেরালায় বর্ণবৈষম্য ছিল। শিক্ষা দিয়ে এই পার্থক্য দূর করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করেছে কেরালা। ১৯৬৩ সালে ভারতের ২৪টি রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় দরিদ্রতম রাজ্য ছিল কেরালা। আর এখন কেরালা ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য। কেরালায় গড় আয়ু ৭৪ বছর, যা প্রায় চীনের সমান।
অমর্ত্য সেন মনে করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক প্রগতির পার্থক্য রয়েছে, প্রথমেই এটা মানা উচিত। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, আবার বঞ্চনাও রয়েছে। বঞ্চনা মানে বহু লোক, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ এই উন্নয়ন থেকে বাদ পড়ছে। এর মধ্যে একটা অন্যায্যতা রয়েছে। সেটার বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ও দেশভাগের আগের সময়কালকে উদাহরণ হিসেবে এনেছেন এই নোবেল বিজয়ী। তাঁর মতে, ১৯৪৭-এ যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শেষ হলো, তখন এই উপমহাদেশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ ১৭৭৬ সালেই অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ বলে গিয়েছেন বিশ্বের ধনী দেশ কোনগুলো। এর মধ্যে ভারতকে তিনি ধরেছেন, বাংলাকেও ধরেছেন। কী কারণে বাংলা ধনী, এর বিবরণও দিয়েছেন অ্যাডাম স্মিথ। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদী দিয়ে তখন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হতো। আর সে কারণেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়েছে। স্মিথের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, উন্নতি করতে হলে বাণিজ্য দরকার।
অমর্ত্য সেন বলেন, ১৯০০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়নি বললেই চলে। এই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, অর্থাৎ অত্যন্ত তুচ্ছ হার। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর প্রথম বছর প্রবৃদ্ধি হলো ৩ শতাংশ। সবাই বলতেন, এটাও কম। কিন্তু ১৯৪৭ সালের তুলনায় বর্তমান মাথাপিছু আয় সাত গুণ হয়েছে। সেই তুলনায় মানুষের আয়ু বাড়েনি।
তাহলে প্রগতি কেন হলো না, এমন প্রশ্ন করে নিজেই তার ব্যাখ্যা দেন অমর্ত্য সেন। তিনি মনে করেন, ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক প্রগতি হলেও মানবিক প্রগতি খুব বেশি হয়নি। ভারতের স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পান না দরিদ্ররা। চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে থাকেন না। আবার যাঁরা থাকেন, তাঁদের অনেকেই প্রকৃত অর্থে চিকিৎসক নন। চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে বহু লোক আরও গরিব হয়েছে। কিন্তু ভারতবর্ষে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। গণতন্ত্রে কিছু বদলাতে হতে আলোচনা হতে হবে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকেরা আসেন না, আবার ছাত্রও আসে না।
তবে তিনি ভারতের রপ্তানি খাতের প্রশংসা করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও গাড়ির যন্ত্রাংশ (অটোপার্টস) শিল্পে যথেষ্ট ভালো করেছে ভারত। এ তিনটি জিনিসই ভারতের রপ্তানি খাতের প্রসারে ভূমিকা রেখেছে। বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই এগুলো হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্থনৈতিক প্রগতির এটি একটি সুফল।
একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান, অমর্ত্য সেনের সহপাঠী অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তব্যে অমর্ত্য সেনের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরেন।
একক বক্তৃতার পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। স্বভাবসুলভ হাসি আর মজার সব কথা বলে দর্শক ও শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন অমর্ত্য সেন। একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন আমার মোমোরি টেস্ট চলছে।’
বিদ্যমান পারিবারিক কাঠামোয় লিঙ্গসমতা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, তা নিয়ে সংশয় আছে। কিন্তু এটা ভাবা উচিত নয় যে উন্নতির আর কোনো উপায় নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা পারফেকশন খুঁজব, না উন্নতি খুঁজব? আমার মনে হয় উন্নতি খোঁজাটাই শ্রেয়।’
ড. সেন মনে করেন, পরিবারে থেকেই আরও ভালো থাকাটাই কাম্য। কারণ পরিবার যদি ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে নারীরা পরিবারের বাইরে থাকতে পারে। তবে তার মানে এই নয় যে পরিবারের বাইরে থাকলে তারা ভালো থাকবে। তাঁর মতে, ‘আমাদের চেষ্টাটা হবে পরিবারের মধ্যে থেকেও কীভাবে ভালো থাকা যায়।’
দর্শকের সারি থেকে অধ্যাপক হায়দার আলী খান প্রশ্ন রাখেন, ভারতে গণতন্ত্র চালু আছে, আবার গণতন্ত্রের অভাবও আছে। গণতন্ত্র কীভাবে গ্লানিহীন হতে পারে?
জবাবের শুরুতে হায়দার খানকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, তিনি একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও কবি, এটা সচরাচর দেখা যায় না। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনা ছাড়া কিছু সম্ভব নয়। কিন্তু দিনে দিনে সেই আলোচনার জায়গাটি সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের গণতন্ত্র কিছুদিনের মধ্যে একেবারে পারফেক্ট হবে, এমনটি মনে করার কারণ নেই। তবে গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, ভাবতে হবে। তাঁর মতে, এর মধ্যেও বহু জিনিস আছে, যা এখনো করা সম্ভব। এর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। যেকোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় উন্নতি খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তক্কাতক্কি’ করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্ব খুব বড় মনে হয়।
বাংলাদেশের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া প্রসঙ্গে একজন চিকিৎসকের প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, এ থেকে প্রমাণিত হয় না যে সেখানে দরিদ্রদের সবাই চিকিৎসা-সহায়তা পায়। আপনি ধনী হলে চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু এর পাশাপাশি এটাও সত্য, সেখানে ম্যালেরিয়া রোগ গরিব মানুষ নির্ণয় করতে পারছে না। তাঁর নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রতীচি ট্রাস্টের কাজের কথা উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন বলেন, দেখা গেছে, ঝাড়খন্ডের কিছু অঞ্চলে চিকিৎসক নয় এমন লোকদের কাছে দরিদ্ররা টাকা খরচ করে ভুয়া চিকিৎসা নিচ্ছে। তাই অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি এমন চিকিৎসাও সেখানে চলছে।
অধ্যাপক সেন বলেন, ‘অর্থ থাকলে চিকিৎসা কোনো ব্যাপার নয়। এটা প্রায় সর্বত্র। এখন আমি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আমেরিকার বড় হাসপাতালের কথাই বলব। অবশ্য ১৮ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর কলকাতার চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। ৬৩ বছর আগে তখন আমাকে বলা হয়েছিল, পাঁচ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. সেন বলেন, ছাত্রজীবনের চিন্তা সারাজীবন চলে। যদিও তা পরিবর্তন হতে পারে। তবে যাঁরা ছাত্রজীবনে বড় প্রশ্ন ভাবেননি, তাঁরা বাস্তব জীবনে হঠাৎ বড় প্রশ্ন করার চেষ্টা করবেন, এটা অপ্রত্যাশিত। নিজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখনো এমন সব বিষয় চিন্তা করি, যার সূত্রপাত প্রেসিডেন্সি কলেজে বা কফি হাউসে বসে।’
অধ্যাপক সেনের মতে, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা ও জানাশোনার পাশাপাশি দুটি জিনিস দরকার। যা পড়লাম তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে হাল ছেড়ে না দিয়ে সন্দেহগুলো নিয়ে চর্চা ও চিন্তা করতে হবে। এ ছাড়া যা পড়ছি তাই মানতে হবে, এমনটি নয়। এটা নিয়ে সন্দেহ করা যেতে পারে।
বামপন্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণে কখনো আক্রোশ বা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেমন নয়। তবে প্রেসিডেন্সি কলেজে রাজনীতি করার কারণে জাপানে ভিসা পেতে সমস্যা হয়েছে। যদিও এখন সেখানে পড়াই।
আক্রোশ প্রসঙ্গ এলে তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘বামপন্থী হওয়ার কারণ ছাড়াও এমন পরিস্থিতি ঘটতে পারে। যেমন, এখন একটা গণ্ডগোল চলছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। আমি শপথ করেছি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কিছু বলব না। আপনারা শুনে রাখলেন, আমি কিছুই বলিনি।’ এ সময় মিলনায়তনজুড়ে হাসির রোল ওঠে।
ধর্ষণ ও নারী পাচার নিয়েও কথা বলেন ড. সেন। তাঁর মতে, ভারতের চেয়ে ব্রিটেন, আমেরিকা ও সুইডেনে ধর্ষণের হার কয়েক গুণ বেশি। কিন্তু সেসব দেশে ধর্ষণ হলে তা পুলিশের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এখন ভারতের শহরে ধর্ষণের ঘটনা পুলিশের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও গ্রামাঞ্চলে ততটা নয়। তার পরও প্রতিবাদ হচ্ছে, মনোযোগ আকর্ষণ করছে এবং গণমাধ্যমে বিষয়গুলো প্রকাশ পাচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও নারী ও শিশু পাচারের বিষয়গুলো নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না। অথচ এটা খুবই অমানবিক ও প্রকট একটি সমস্যা। তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
প্রশ্নকর্তাদের মধ্যে আরও ছিলেন সালমা খান, খুশী কবির, গোলাম রহমান, আবদুল মান্নান চৌধুরী, শাইখ সিরাজ, কানিজ সিদ্দিকী, খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তানিয়া হক, মুন্নী সাহা, অদিতি ফাল্গুনী প্রমুখ।

[অমর্ত্য সেনের একক বক্তৃতানুষ্ঠানে যাঁরা কষ্ট করে এসেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে মিলনায়তনের ভেতরে ও বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য শুনেছেন। আবার অনেকে বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে গেছেন। এ জন্য সিপিডি ও প্রথম আলোর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।]

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0