চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে মিরসরাই ও পাশের সীতাকুণ্ড উপজেলায় জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। এর আগে জঙ্গিরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের রামু এলাকায় ছিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বারবার অভিযানের কারণে তারা স্থান বদল করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
চট্টগ্রাম পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি কুমিল্লা ও সীতাকুণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। তাঁরা জানান, আস্তানা গাড়া জঙ্গিরা নব্য জেএমবির সদস্য।
মিরসরাই এলাকায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার একর জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘিরে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি সেখানে বাড়বে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সীতাকুণ্ডের জঙ্গিদের সঙ্গে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে। মিরসরাই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ সৃষ্টি হচ্ছে। এই কর্মযজ্ঞ ঘিরে সেখানে বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি বাড়তে পারে। এ কারণে জঙ্গিরা সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু বিদেশি নাগরিক। কিন্তু পুলিশ তিনটি আস্তানা ধ্বংস করে দিয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে কিছু সময় অবস্থান করেছিল। এরপর পুলিশি অভিযানের মুখে তারা স্থান বদল করে পটিয়ায় বাসা ভাড়া নেয়। পটিয়া থেকে দ্রুত সরে এসে জঙ্গিরা সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। বান্দরবান ছাড়াও কক্সবাজারের ঈদগাঁ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী যাওয়ার পথে গহিন এলাকায় এই জঙ্গিদের আস্তানা ছিল। সম্প্রতি এক বাড়ির মালিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এর আগে গত বছরের ৯ জুলাই সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় চার জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছিল। তখন ওই চারজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও তিন জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছিল। তারা সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে রাসায়নিক কারখানা চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে কর্মরত চীনা নাগরিক ও পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়ে কারখানাসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হওয়ার কথা ওই সময় স্বীকার করেছিল।
ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার অভিযানে সাতজন জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছিল। চীনের ২৮ নাগরিককে হত্যার পরিকল্পনার কথা ওই জঙ্গিরা আমার কাছে স্বীকার করেছিল। অভিযানের ২০ দিন পর ২৯ জুলাই আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করে নারায়ণগঞ্জে চলে আসি। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই আমার উত্তরসূরিকে সীতাকুণ্ড এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করে এসেছিলাম।’
সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন