default-image

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় যাতে না হয়, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি আশা করেন, এ ক্ষেত্রে সরকারি হিসাব-নিরীক্ষার সঙ্গে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ভূমিকা রাখবেন।
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ২০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে এ সমাবর্তন হয়। সমাবর্তনে মোট ৩৩৬ জনকে সনদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি হিসাব ও নিরীক্ষা পেশাকে ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও তা করা দরকার, নতুবা আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাব।’
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশার প্রধান মূলধন হচ্ছে—সততা এবং আপনাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা। আপনারা কোড অব এথিকস যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে নিজেদের সততা ও সমাজের বিশ্বাসকে সমুন্নত রাখবেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে সব সময় অগ্রাধিকার দেবেন।’ তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার আজ বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও করপোরেট খাতেরও বিকাশ ঘটেছে। এই বিশাল অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশার সদস্যরা নিজেদের আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রাখবেন বলে তিনি আশা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৩৫৭ জন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আছেন, যাঁদের মধ্যে ১৫৩ জন বিদেশে দায়িত্বপূর্ণ কাজে কর্মরত। সময়ের চাহিদা পূরণে এই পেশার গুণগত মান ঠিক রেখে এই সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ চলমান সহিংসতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গিবাদ গণতন্ত্রের বিরোধী। যারা এসব করে, তারা বাংলাদেশ নিয়ে খেলে। তবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি বলেন, কোনো দিন সন্ত্রাসের কাছে, এ ধরনের কার্যকলাপের কাছে কেউ মাথা নত করতে পারে না। দেশে আজ যে ঘটনা ঘটছে, তা কারও কাম্য নয়।
সমাবর্তন বক্তা ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নে বড় বাধা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।
আইসিএবির সভাপতি মসিহ্ মালিক চৌধুরী নবাগত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের উদ্দেশে বলেন, ‘মনে রাখবেন সব সময় সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কর্মজীবন পরিচালনা করলে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে। দেশের উন্নয়নে, দেশকে ভালোবেসে সেবা করার চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এফ নেসারউদ্দিন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন