টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতালে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মানিকগঞ্জের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প। পরিবহনসংকটের কারণে এসব কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ কমে গেছে। বেড়ে গেছে তাঁদের উৎপাদন খরচ। ফলে কোনো কোনো কারখানায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কারখানার মালিকেরা।
জেলা সদরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনে (বিসিক) অবস্থিত কারখানাগুলো ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেল।
বিসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সদরের গোলড়া এলাকায় ৯ দশমিক ৮ একর জমির ওপর এই শিল্পনগর গড়ে ওঠে। বর্তমানে এই শিল্পনগরের ৬৯টি প্লটে ২৬টি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কারখানা আছে। আর্থিক-সংকটের কারণে তিন বছর ধরে তিনটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। তবে চালু রয়েছে বাকি ২৩টি।
শিল্পনগরের অন্তত ১০টি কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে ঢিমেতালে। কোনো কোনো কারখানার শ্রমিকেরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন।
সুপারসাইন কেব্ল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান তামা (কপার) ও পিবিসি (তামার তারের ওপর প্লাস্টিকের ছোট পাইপ) দিয়ে বৈদ্যুতিক তার তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাকশন ইনচার্জ উত্তম ভৌমিক জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে তাদের পণ্য কাঁচামাল আসে। কিন্তু অবরোধ-হরতালের কারণে এই কাঁচামাল সরবরাহে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এর ফলে উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৫০ ভাগ।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক প্যাকেটজাত (রি-প্যাকেজিং) করে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্ডাস্ট্রিজ। একটি কারখানার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসাইন জানান, রংপুর, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে এসব কীটনাশক সরবরাহ হয়ে থাকে। এখন বোরো মৌসুম চলছে। কিন্তু অবরোধ-হরতালে পরিবহনসংকটের কারণে জরুরি এই কীটনাশক ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না।
কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে জানালেন মেসার্স চিশতী পিভিসি ইন্ডাস্ট্রিজের হাফিজুল ইসলাম। প্লাস্টিকের উপাদান প্রস্তুতকারী কারখানাটির এই ব্যবস্থাপক জানান, অবরোধের আগে এক ট্রাক (পাঁচ টন) প্লাস্টিক গুঁড়া ঢাকার লালবাগে পাঠাতে খরচ পড়ত সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু এখন লাগছে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে তাঁদের রপ্তানি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু কাঁচামাল সরবরাহ না হওয়ায় পণ্য সরবরাহও করা যাচ্ছে না।
করবেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের কীটনাশক প্যাকেটজাতের অপর একটি কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন জানান, সোমবার রাতে রংপুরগামী তাঁদের একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গত মাসে রংপুরে তাঁদের আরেকটি ট্রাকে ভাঙচুর চালানো হয়। জে অ্যান্ড জে অ্যাসেনসিয়াল প্রোডাক্টস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জামাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামাল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে।
জেলা বিসিক কর্মকর্তা খন্দকার মেহেবুব জামান বলেন, হরতাল-অবরোধে কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন