রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা: প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা আসামি

অস্ত্রধারীদের আসামি করা হয়নি

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের করা চার মামলার কোনোটিতেই ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী কোনো নেতাকে আসামি করা হয়নি। আসামি করা হয়েছে আন্দোলনকারী প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ও শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি ও সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গত রোববার হামলা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। ওই হামলার ঘটনায় সোমবার নগরের মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুটি ও পুলিশ দুটি মামলা করে।
ছাত্রলীগ দাবি করেছে, তাদের ওপর শিবিরের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছিলেন। তারা প্রতিরোধ করেছে মাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা প্রতিটি মামলার এজাহারেই ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুই মামলার আসামিরাও একই ব্যক্তি। একটি মামলায় ‘দলবদ্ধ হয়ে প্রশাসনিক কাজে বাধাদান, সাধারণ জখমসহ ক্ষতিসাধনের’ অভিযোগ আনা নয়। মামলায় ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
অপর মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি করে রাখা হয়েছে ৩০০ জন।
পুলিশের করা পৃথক মামলা দুটিতেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দুই মামলায়ও অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩০০ দেখানো হয়েছে। আর প্রতি মামলায় নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ৪৫ জনকে। দুই মামলার আসামিরা একই ব্যক্তি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলা দুটির এজাহার থেকে জানা যায়, মামলায় আসামি করা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা (সমাজবিজ্ঞান), সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল্লাহ আল মুইজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ), সহসভাপতি শিরিন আক্তার (সমাজকর্ম), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসান হাবীব (সমাজকর্ম) ও উৎসব মোসাদ্দেক (সমাজকর্ম)। অন্য আসামিদের মধ্যে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি সুমন অগাস্টিন সরেন (ইতিহাস), সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম (মার্কেটিং) ও সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ (বাংলা); ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সোহরাব হোসেন (মার্কেটিং), সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ওরফে সুজন (নৃবিজ্ঞান), অর্থ সম্পাদক তাসনিমা তাহরিন (বাংলা) ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান (ফোকলোর বিভাগ) উল্লেখযোগ্য।
একই অভিযোগে আসামি শিবিরের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ওরফে ইমন, মানবসম্পদ-বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম ও শিবিরের নেতা মিজানুর রহমান।
মতিহার থানার উপপরিদর্শক মাসুদার রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা অপর দুটি মামলায়ও একই আন্দোলনকারী ও শিবিরের নেতাদের আসামি করা হয়েছে। কোনো মামলাতেই ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী কোনো নেতার নাম নেই।
মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুন নূর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা অভিযোগ দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই মামলা করেছি।’ পুলিশের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা হয়তো সবাইকে তাৎক্ষণিক চিনতে পারেননি। তাই সবার নাম দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে দাবি করেন শামসুন নূর।
ছাত্রলীগের মামলা: বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও গত সোমবার নগরের মতিহার থানায় দুটি মামলা করা হয়। একটি মামলায় ‘বেআইনি জনসভায় দলবদ্ধ হয়ে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমণ, মারপিট ও জখম করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরটিতে ‘ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুরুতর জখম করার’ অভিযোগ আনা হয়।
দুই মামলাতেই ছাত্রশিবিরের ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন