অ্যাসিডদগ্ধদের একটি বড় অংশ মনে করে, সমাজে এমন মানুষের অভাব নেই যারা মনে করে পাপের কারণে অ্যাসিড হামলার শিকার হতে হয়। অনেকে মনে করে, অ্যাসিডে ঝলসানো মুখ অকল্যাণকর। সন্তানের চেহারা বিকৃত হবে—এই আশঙ্কায় গর্ভবতী নারীদের অ্যাসিডদগ্ধদের সামনে যেতে দেওয়া হয় না। প্রচলিত এসব ধারণা এসিডদগ্ধদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
গতকাল শনিবার অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক শাহানূর হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক দেশের ছয়টি বিভাগের ১২টি জেলায় ১২০ জন অ্যাসিডদগ্ধ নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে ‘কোপিং উইথ ডিসফিগারমেন্ট: এ ফোকাস অন সারভাইভারস অব অ্যাসিড অ্যান্ড আদার বার্ন ভায়োলেন্স’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার আওতায় আসা ১২০ জনের মধ্যে ১১৫ জনেরই শরীরের দগ্ধ জায়গায় বিকৃতি ঘটার কারণে কাজকর্ম করতে অসুবিধা হয়। দগ্ধ পুরুষদের ৬৪ শতাংশ ও নারীদের ৫৭ শতাংশ মনে করে, তাদের কেউ ভালোবাসে না। ৬০ ভাগ অ্যাসিডদগ্ধ বলেছে, তারা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয় চেনা পরিবেশে। প্রতিবেশীরা তাদের দেখে আজেবাজে কথা বলে। অপমানের শিকার হতে পারে এই আশঙ্কায় অ্যাসিডদগ্ধরা ছবি তোলে না, আচার-অনুষ্ঠান যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলে।
তবে ওই একই গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যাসিডদগ্ধদের মধ্যে যাঁরা বেশি শিক্ষিত তাঁরা ভালোভাবেই এসব চ্যালেঞ্জ উতরে যান।
অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা এসিডদগ্ধদের বলে পাপের কারণে মানুষ অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়, তারা যদি মনে করত, যেকোনো সময় তারাও আক্রমণের শিকার হতে পারে এবং সে ঘটনাক্রমে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়নি, তাহলে আর সমাজে এ বৈষম্যের সৃষ্টি হতো না।
অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা প্লাস্টিক সার্জন শহীদুল বারী বলেন, কারও মুখে অ্যাসিড ছোড়া হলে বিকৃতি অনিবার্য। অ্যাসিডদগ্ধ ব্যক্তিরা বিকৃতি নিয়ে মানসিক কষ্টে ভোগে। কিন্তু শিক্ষা, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নমিতা হালদার শোনান, কী করে অ্যাসিডে দুটি চোখ হারিয়েও তিনি শিক্ষকতা করছেন।
অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, অ্যাসিডের কারণে দগ্ধ ব্যক্তিদের যে বিকৃতি ঘটে, সেটির কারণে নতুন করে সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয় দগ্ধরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন