বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘আলোয় আঁধারে’ নামের প্রদর্শনীর দ্বার খুলেছিল গতকাল শনিবার বেলা ১১টায়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল সন্ধ্যা পাঁচটায়। প্রথম আলোর ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ৪ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে যে অনুষ্ঠানমালা চলছে, তার অংশ হিসেবে কাল থেকে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন। বিশিষ্ট শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান সেই ২০০৯ সাল থেকেই প্রথম আলোর সঙ্গে নানাভাবে কাজ করেছেন, বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী করেছেন। এবারের প্রদর্শনীরও ভাবনা এবং উপস্থাপনা তাঁর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, বহুবিধ কাজের ভেতর দিয়ে প্রথম আলোর ব্যাপ্তি ঘটেছে। দেশের অন্যতম প্রধান মিডিয়া হাউসে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমের অসাধারণ বিকাশ ঘটেছে। তবে ছাপা কাগজের গুরুত্ব কমেনি। এ দিকগুলো ভাবনায় এনে, প্রদর্শনী কক্ষের পরিসর একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবহার করা হয়েছে। খবরের কাগজের বান্ডিল করে নানা রকম আকৃতিতে সাজিয়ে শহরের দালানকোঠা এবং এর মাঝ দিয়ে ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে সড়ক, গলির আদল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কাগজের বান্ডিলের দেয়ালগুলো মেঝেতে একরকম প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করেছে। লোকজনকে সতর্ক হয়ে চলতে হচ্ছে। অর্থাৎ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতায় প্রথম আলোকে পড়তে হয়েছে, হচ্ছে তা প্রতীকীভাবে এতে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াকিলুর রহমান বললেন ‘শব্দ’ ও ‘ছবি’–সংবাদের এই দুই প্রধান উপকরণ নিয়েই প্রদর্শনীর নান্দনিক উপস্থাপনা।

default-image

এই কাগজের বান্ডিলগুলোর ভেতরে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ২৪টি বড় আকারের মনিটর। সেখানে অনবরত বিভিন্ন ছবি ঘুরে ঘুরে আসছে। কোনোটিতে আছে শিশির ভট্টাচার্য্যের কার্টুন, কোনোটিতে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পাঠকদের তোলা ছবির প্রতিযোগিতার বাছাই করা ছবি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ছবি। আরও আছে প্রথম আলোর বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন ত্রাণ তৎপরতা, গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগ, বই ও সাময়িকীর প্রকাশনা, চরকির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ। এসব মনিটর থেকে উৎসারিত আলোই আঁধার তাড়িয়ে ঘরে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচক ছিলেন স্থপতি সাইফুল হক। তিনি বলেন, করোনা মহামারিকালে তথ্যপ্রযুক্তিরও বহুমুখী বিকাশ দ্রুততর হয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রথম আলো সময়ের প্রয়োজনকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করে ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমের কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। এ প্রদর্শনীতে পাঠকেরা সেই পরিচয় পাবেন। তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও যে এভাবে উদ্‌যাপন করা যায়, এটা আমাদের দেশে একটি বড় ঘটনা।’

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, পরিবেশগত দিক থেকে পৃথিবীর অবস্থা জীবনের অস্তিত্ব ধারণের পক্ষে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু বিশ্বনেতারা সত্যিকার অর্থে কার্যকর পক্ষে নিতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক, গণমাধ্যম, শিল্পী এবং সর্বস্তরে মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৮ সালে যখন প্রথম আলো প্রকাশিত হয়, তখন দেশে একটি অন্য রকম পরিস্থিতি ছিল। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। ছাপা কাগজের পাশাপাশি শুরু থেকেই অনলাইনে কিছু কিছু সংবাদ দেওয়া হতো। তবে ডিজিটাল কার্যক্রম পুরোদস্তুর শুরু হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে। এরপর নানাভাবে এ মাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে। প্রথম আলোর অন্য কাজও বেড়েছে। তবে মূল যে লক্ষ্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তা অব্যাহত আছে। পাঠকেরা এ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্যই ছাপা ও ডিজিটাল উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম আলোকে বিশ্বাস করেছেন। শীর্ষ স্থানে নিয়ে গেছেন। প্রথম আলো পত্রিকা থেকে বৃহৎ গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে এ রূপান্তর উঠে এসেছে।

প্রথম আলোর বিশেষ কার্যক্রম সমন্বয়ক সাইদুজ্জামান রওশনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল সায়ন্তনী ত্বিষার গাওয়া ‘তোমার খোলা হাওয়া’, ‘আমরা এমনি এসে ভেসে যাই’ ও ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’ গান দিয়ে।

আজকের আয়োজন: আলোয় আঁধারে প্রদর্শনী চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর বিকেল পাঁচটায় প্রতিদিনই থাকবে বিশেষ আয়োজন। আজ রোববার আছে ‘গণমাধ্যম, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা। অংশ নেবেন মাহ্ফুজ আনাম ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করবেন সাজ্জাদ শরিফ। সূচনা শেলী গান শোনাবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন