বলপ্রয়োগের ক্ষমতা কেড়ে নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাগুজে বাঘ হয়ে যাবে বলে মনে করে পুলিশ। কাজেই আইনে পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া যাবে না। গতকাল রোববার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ দাবি করেছেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পুলিশ, র‍্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার, ভিডিপি ও কোস্টগার্ডের হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু বন্ধে সরকার ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’ পাস করেছে। এর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এখন। মূলত ওই আইনটির খসড়া বিধিমালায় কিছু সুপারিশ করতে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কর্মশালায় অংশ নেন পুলিশ সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা।
পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বলপ্রয়োগের ক্ষমতা না দিলে পুলিশ একটি “ডামি” (মেকি) প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’ পুলিশি হেফাজতে কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে পুলিশ কেন দায়ী হবে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর পক্ষে সহমত জানান বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও দু-একজন আইনজীবী।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তিকে যেকোনো স্থানে আটক করে উপর্যুপরি চড়, থাপ্পড়, ঘুষি, লাথি মারা, বেত, লাঠি, রাইফেলের বাঁট বা অন্য কোনো শারীরিক আঘাত বা বলপ্রয়োগ করাকে আইনের খসড়া বিধিমালায় শারীরিক নির্যাতন বলা হয়েছে।
আইনে তৃতীয় কোনো পক্ষের আদালতে মামলার যে ক্ষমতা সেটিও কমিয়ে আনার সুপারিশ করেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের যুক্তি ছিল মা-বাবা-ভাই-বোন ছাড়া আর কেউ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশিত হলে অভিযোগের পক্ষে অডিও ও ভিডিও ক্লিপ না থাকলে তা আমলে না নেওয়ার সুপারিশ করেন তাঁরা। পুলিশ সদস্যরা বলেন, আইনে মানসিক নির্যাতনের যে কথা বলা হয়েছে, সেটির অপব্যবহারের সুযোগ থাকে, তাই মানসিক নির্যাতনকে এ আইন থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন পুলিশ সদস্যরা।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, আইনটি পুলিশের হাত-পা বেঁধে ফেলার জন্য করা হয়নি। সব পেশায় ভালো-মন্দ মানুষ আছেন। পুলিশও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি হেফাজতে থাকার সময় কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে তার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় পত্রপত্রিকার সাহায্য নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় সাংবাদিকেরা আইনটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা বলেন, মা-বাবা-ভাইবোনকে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা বিরল নয়। শিশু জিহাদের বাবাকে পুলিশ র্যাবের ভয় দেখিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি খুবই জরুরি। তাঁরা অডিও ও ভিডিও ক্লিপ ছাড়া প্রতিবেদন আমলে না নেওয়ার সুপারিশেরও সমালোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন