গতকাল সোমবার প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘প্রশাসনের কর্মকর্তা বিচার বিভাগের বদলির তালিকায়, অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট বিচারকেরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এস মোহাম্মদ আলী এই ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন। ১৫৮ কর্মকর্তার বদলির প্রস্তাবেও তাঁর সই ছিল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদারকে কক্সবাজারের সহকারী জজ হিসেবে উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু কক্সবাজার বা বিচার বিভাগেও এ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।
আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘শতরূপা তালুকদার পঞ্চম জুডিশিয়াল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহকারী জজ পদে মনোনীত হন এবং তাঁকে কক্সবাজারে পদায়ন করা হয়। তাঁর পদায়নের বিষয়টি আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১-এ রক্ষিত রেজিস্টারে নিবন্ধিত আছে। কিন্তু তিনি যে বিচার বিভাগ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, সে বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগকে অবহিত করেননি। সে কারণেই তাঁকে কক্সবাজারের সহকারী জজ হিসেবে উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে।’
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিজ জেলায় পদায়ন না করলেও কাছাকাছি জেলায় বদলি করা হয় মর্মে কোনো আইন বা বিধি নেই। আর চাকরিবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীদের যেকোনো জেলায় বদলি করা হয়। এ ছাড়া বদলির বিষয়ে এখনো কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। শুধু সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: শতরূপা তালুকদার আসলে বিচার বিভাগে যোগদানই করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শতরূপা তালুকদার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলা আমার জন্য বিব্রতকর। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিচার বিভাগের গেজেট হওয়ার আগেই আমি প্রশাসনে যোগ দিয়েছি। আর যখন গেজেট হয়, তখন আমি রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত। আমি যেহেতু বিচার বিভাগে যোগই দিইনি, ইস্তফা দেওয়ারও প্রশ্ন আসে না।’
নিজ জেলার আশপাশের জেলায় বদলির আইন বা বিধি আছে, এমন কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়নি। তবে অনেক দিন ধরেই এ রকম রীতি আছে। আর একজন কর্মকর্তাকে তাঁর নিজের জেলায় বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এ ছাড়া প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এ বদলির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারির কথা বলা হয়নি, প্রস্তাবের কথাই বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন