বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ যখন বঙ্গোপসাগরের অংশ তখন আইপিএসের আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত থাকতে হবে
মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্রসচিব

গত মঙ্গলবার প্যারিসে হাসিনা-মাখোঁ আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর প্রচারিত যৌথ ঘোষণায় আইপিএস নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে দুই দেশ সবার সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রেখে অবাধ, মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অংশগ্রহণমূলক ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে। ওই ঘোষণায় ফ্রান্স ও ইইউর আইপিএসকে বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুনীল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা প্রথম আলোকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা শেষে প্রচারিত যৌথ ঘোষণায় এই প্রথমবারের মতো আইপিএসের প্রসঙ্গটি এল। ফলে ফ্রান্স তথা ইইউর ঘোষিত নীতির প্রতি বাংলাদেশের যে সমর্থন আছে, সেটা স্পষ্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর আইপিএসে বিশেষ মনোযোগ থাকায় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ হিসেবে সরকার একটি কৌশলপত্র চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। আইপিএস নিয়ে সংক্ষিপ্ত এই কৌশলপত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হবে।

গত দুই মাসে বাংলাদেশ জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা করেছে। বার্লিন, লন্ডন ও ব্রাসেলসের বৈঠকে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইইউ আইপিএস নিয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশকে জানিয়েছে। তেমনি আইপিএস নিয়ে ঢাকা কী ভাবছে, সেটাও তারা জানতে চেয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ইইউ যেভাবে আইপিএসের বিষয়টি আলোচনায় তুলেছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ ও জোট এ বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাবে। তারা বাংলাদেশের অবস্থানও জানতে চাইবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্যারিস সফরের আগে আইপিএস নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইপিএস নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ যেহেতু বঙ্গোপসাগরের অংশ, তাই আইপিএসের আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ অঞ্চলে কিছু ঘটলে সেখানে আমাদের স্বার্থের বিষয়টিও জড়িত। তাই আইপিএসের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কৌশল ঠিক করা হবে। তবে আইপিএসের মাধ্যমে যাতে কোনো দেশকে আটকে দেওয়ার বিষয়টি না থাকে, সেটি বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে বলবে।’

দেশে-বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইইউ আইপিএস নিয়ে তাদের কৌশল ঠিক করলেও সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে এটা ভাবার সুযোগ নেই। এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে এগোনো উচিত। এ ক্ষেত্রে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইইউর কৌশলকে বাংলাদেশের কাছে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। কারণ, ইইউ তাদের কৌশলে অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে।

শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূকৌশলগত কারণে ভূরাজনৈতিক নানা পরিবর্তন হচ্ছে। তা থেকে বাংলাদেশের দূরে সরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে জাতীয় স্বার্থে যে কৌশল বাংলাদেশ ঠিক করবে, তাতে ভারসাম্য থাকতে হবে। এখানে বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতা জোরালোভাবে তুলে ধরাটা বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশ যে কৌশল ঠিক করবে, সেখানে স্পষ্ট করে বলতে হবে কোনো ধরনের সামরিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ যাবে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন