অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পর্কে জানেন না স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে) আ ম ম মিনহাজুর রহমানও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, করোনাকালে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সেবার চাহিদা ছিল ব্যাপক, অথচ এমন একটি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে গ্যারেজে। এভাবে পড়ে থাকতে থাকতেই এটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হবে, ওপর মহলে পত্রবিনিময় হবে, একসময় অচল হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৫ টাকার অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালকে দেওয়া হয় ২০১৯ সালের শেষের দিকে। কিন্তু কখনও রোগী বহন করেনি এটি। আগে বিভাগীয় নার্সিং কার্যালয়ের ভবনের নিচে রাখা হতো। মাসখানেক ধরে মেডিকেল মাঠের পাশে একটি আলাদা আধা পাকা ঘরে রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তাদের জানাতে হয়। তবে গত দেড় বছরে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের কোনো তথ্য কারও কাছে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ফয়সাল কবিরের কাছে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়ার পর থেকে পড়ে আছে। সপ্তাহান্তে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের চালকদের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) মো. রফিক ‘স্টার্ট’ দেন। একটু ঘুরিয়ে আবার তা গ্যারেজে রেখে দেন। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে যন্ত্রপাতিগুলোতে চার্জও দেন বলে জানা গেছে।

অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার, উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার, ইসিজি মেশিন, সিরিঞ্জ পাম্প, মনিটর, ভ্যান্টিলেটর মেশিন, সাকার মেশিনসহ জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের গ্যারেজ রয়েছে হাসপাতালের পেছনের অংশে। এর পাশে উঁচু করে আরেকটি গ্যারেজ করে সেখানে রাখা আছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি। এর এক পাশে লেখা ‘সরকারি সম্পত্তি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’। সামনের অংশে আইভেকো ব্র্যান্ড লেখা রয়েছে।

জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনার জন্য দুজন চালকের পাশাপাশি একজন চিকিৎসক ও নার্স দরকার হয়। মূলত আইসিইউ বা অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসকেরা এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। হাসপাতালে সেই লোকবল নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সের তদারকির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার বিষয়টি দেখে। কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রাজীব পালিতের কাছে যানটির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স। এ জন্য লোকবল দরকার হয়। অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের একটা দল মোটামুটি প্রস্তুত আছে। লাগলে ব্যবহার করা হবে। এখনো সেভাবে চাহিদা আসেনি। এমনিতে এটি স্টার্ট দিয়ে রাখা হয়। নইলে নষ্ট হয়ে যাবে।

কর্তৃপক্ষ চাহিদা আসেনি দাবি করলেও সাধারণ মানুষ জানেই না, এ ধরনের বিশেষায়িত সেবা রয়েছে এই সরকারি হাসপাতালে। বেসরকারি একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা লাগে। আর এই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করলে সেই খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, চিকিৎসার জন্য সরঞ্জাম দিচ্ছে সরকার। কিন্তু তার সুষ্ঠু ব্যবহার না হলে জনগণ সুফল পাবে না। সুশাসন ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে এটা হচ্ছে। আর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় কমিশন–বাণিজ্যের বিষয়টিও খুঁজে দেখা দরকার।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আইসিইউ সুবিধা-সংবলিত একটি অ্যাম্বুলেন্স লোকবলের অভাবে দুই বছর ধরে পড়ে আছে। এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোতে ‘দুই বছর ধরে পড়ে আছে দেড় কোটি টাকার অ্যাম্বুলেন্স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন