মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে লাখো রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে লাখো রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।রয়টার্স ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলার সপক্ষে ৫ শ পৃষ্ঠার স্মারক জমা দিয়েছে গাম্বিয়া। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে অতিরিক্ত ৫ হাজার পৃষ্ঠার বেশি সম্পূরক নথিপত্র যুক্ত করেছে দেশটি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সরকার কীভাবে দায়ী, তা এসব স্মারক ও নথিপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির খবরে বলা হয়, শুক্রবার এই নথিপত্রগুলো আইসিজেতে উপস্থাপন করে গাম্বিয়া।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চালানো গণহত্যার সপক্ষে প্রমাণ সংরক্ষণে মিয়ানমার সরকারের উচিৎ অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নির্দেশগুলো মেনে চলা।

বিজ্ঞাপন

ফোর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আজ আরেকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ (ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে) আইসিজের মতো আন্তর্জাতিক জবাবদিহি পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যখন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহারে নিষ্ঠুর অপরাধ চালানো হচ্ছে।’
২০১৯ সালের নভেম্বরে গাম্বিয়া আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধ বা এর জন্য দোষী ব্যক্তিদের বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ায় করা হয় ওই মামলা। মামলার পক্ষে গাম্বিয়ার দাখিল করা নথিপত্রের বিপরীতে মিয়ানমার নিজের পক্ষে নথিপত্র দাখিলের জন্য তিন মাস সময় পাবে। এসব নথিপত্র ও (সম্ভাব্য) পাল্টা নথিপত্র মামলার বিচার চলাকালে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না। এই বিচার কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।

মন্তব্য পড়ুন 0