নিজেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে আগাম প্রচারণা চালানোর অভিযোগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আবদুচ ছালামকে সতর্ক করে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ। তিনি নগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান।
মেয়র পদে প্রার্থিতার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনও।
গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভা হয়। ওই সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে দাবি তোলা হয়।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে কাজ করলেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম দলের বেশির ভাগ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তফসিল ঘোষণার আগেই দলীয় সমর্থন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটারদের নজর কাড়তে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ঘরোয়া ও সামাজিক নানা আয়োজনেও হাজির থাকছেন তাঁরা। চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই। আগামী জুন মাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মাঠে নেই বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীরা। টানা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের নামও রয়েছে। তাঁর পক্ষে সাত-আট মাস আগেই নগরের বিভিন্ন মোড়ে পোস্টার ও ব্যানার টানানো হয়। অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর নাশকতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর পর থেকে প্রকাশ্যে আসছেন না বিএনপির এই নেতা।
তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীরা চাচ্ছিল মেয়র পদে নির্বাচন করি। অনেক দিন ধরে এ লক্ষ্যে কাজ করছিলাম। এখন আন্দোলন চলছে। দল এবং চেয়ারপারসন যদি চান, তাহলে নির্বাচন করব।’
বর্তমান মেয়র এম মন্জুর আলমও নিয়মিত সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মেয়র মন্জুর আলম সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। তফসিল ঘোষণা হোক, তারপর আল্লাহর হুকুম লাগবে, বান্দার ইচ্ছা ও সমর্থন লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করতে দলের ইচ্ছা ও সমর্থন লাগবে। এসবই আমার কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।’
মেয়র পদে প্রার্থিতার বিষয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘লোকজন আমার কাছে আসছেন। তাঁরা আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান। নেত্রী আবার সুযোগ দিলে, চট্টগ্রামকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।’
এ বিষয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছি। সব বিষয় বিবেচনা করে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।’
সম্ভাব্য আরেক মেয়র প্রার্থী আবদুচ ছালাম বলেন, ‘নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে আট মাসে ২৫০টির বেশি উঠোন বৈঠক করেছি। আমার লক্ষ্য—জলাবদ্ধতা দূর করে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে গড়ে তোলা।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন