আজ শুক্রবার বিকেলে এই উপজেলায় গাহীপুর ও কলাগাছিয়া এই দুটি গরুর হাটে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। পটুয়াখালীর সীমান্তবর্তী গাজীপুর বাজারটিতে আজ বিকেলে অগণিত ক্রেতাকে দেখা যায়, যাঁরা স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই গরু কেনার জন্য উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকের মুখেই মাস্ক নেই, আবার যাঁরা মাস্ক পরেছেন, তাঁদের অনেকে তা থুতনিতে নামিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঘোরাফেরা করছেন।

এখানে ট্রাক নিয়ে এই বাজারে গরু কিনতে এসেছেন লক্ষ্মীপুরের ব্যাপারী আব্বাস উদ্দীন ও মোফাজ্জল হোসেন। তাঁরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুর বাজার গাজীপুর ও আমতলী। এখানে প্রচুর গরু ওঠে। তাই অনেক বছর ধরেই তাঁরা এই দুটি হাটে গরু কেনার জন্য আসেন। গরু কিনে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। এ রকম আরও অনেক জেলা থেকে ব্যাপারীরা এখানে গরু কেনার জন্য আসেন।
একইভাবে কলাগাছিয়া বাজারটিও ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে ঠাসা। গত বুধবার এ আমতলী পৌর এলাকায়ও গরুর হাট বসানো হয়। সেখানেও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

আমতলী সদর ও গাজীপুর বন্দরের গরুর হাট দুটি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুর বাজার। এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা আসেন কেনাবেচা করতে। যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, খুলনা ও লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, পাবনার শতাধিক গরু ব্যবসায়ী এসব হাটে এসে গরু ক্রয়–বিক্রয় করছেন।

এই দুটি বড় গরুহাটের ইজারাদার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মৃধা। তিনি আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মূলত তাঁর প্রভাবেই আমতলী উপজেলায় লকডাউন উপেক্ষা করে এ রকম অন্তত ১০টি গরুহাট বসে। এর মধ্যে চারটি হাট বড়। এগুলো হলো আমতলী শহর, চুনাখালী, গাজীপুর বন্দর ও কলাগাছিয়া।

আমতলী পৌর শহরে বুধবার, গাজীপুর বন্দর ও কলাগাছিয়া বাজারে শুক্রবার ও চুনাখালী বাজারে শনিবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এ হাটগুলোতে হাজার হাজার গরু ক্রয়-বিক্রি হয়। এসব হাটে স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকে না।

স্থানীয় ক্রেতা আবদুল হালিম পেয়াদা, নওয়াব মিয়া, মাহবুব হাওলাদার হাটে গাজীপুর বাজারে শুক্রবার বিকেলে কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছিলেন। তাঁরা বেলা তিনটার দিকে বলেন, সবে তো হাট শুরু হয়েছে। আরও দুই ঘণ্টা পর এলে দেখবেন, লোক দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। তাঁদের কারও মুখেই মাস্ক ছিল না। মাস্ক না পরার ব্যাপারে তাঁরা বলেন, ‘গ্রামে তো বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরে না।’

জানতে চাইলে ইজারাদার মোতাহার হোসেন মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুধবার আমতলী শহরে হাট বসানোর কারণে ডিসি সাহেব (জেলা প্রশাসক) আমাকে ডেকেছিলেন। পরে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছেন। আমি লিখিতভাবে জবাব দেব। গরুর হাট বসানো যাবে না, এমন কোনো বিধিনিষেধ ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তে নেই। আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হাট বসাই।’

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে হাটে সামাজিক দূরত্ব রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতভাগ মাস্ক পরিধান করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশ করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা ছাড়া অন্য কেউ হাটে প্রবেশ করতে পারবে না। হাট ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পশু বেচাকেনার জন্য সামাজিক দূরত্ব রেখে বাঁশের বেড়া দিয়ে দিতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।