default-image

বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলের আওতায় এ দেশের নৌপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহন করতে চায় নেপাল। এ ছাড়া ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৈয়দপুরের সঙ্গে বিরাটনগর ও ভদ্রপুরের সঙ্গে নেপাল সরাসরি বিমান চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে জনগণ ও পণ্যের চলাচল অবাধ করতে নেপাল নৌ আর আকাশপথে যোগাযোগে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রোববার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার সকালে ঢাকায় আসছেন বিদ্যা দেবী ভান্ডারি। সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘মুজিব চিরন্তন’ শিরোনামের ১০ দিনের অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ দিনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন। রাতে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ওই আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে রোহানপুর-সিংহাবাদ রেললাইন দিয়ে পণ্য পরিবহন, পর্যটন খাতে সহযোগিতা, সংস্কৃতিবিনিময়সহ চারটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।

কেন আকাশপথে নতুন রুট
নেপালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস আজ রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের পুরোটাই এখন আকাশপথে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে সীমিত।

কিন্তু নেপালের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা সৈয়দপুর হয়ে সহজে ও কম সময়ে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারেন। এটি বিবেচনায় নিয়ে নেপাল কয়েক বছর ধরে সৈয়দপুর থেকে বিরাটনগর পর্যন্ত আকাশপথে যোগাযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করছে। সবশেষ দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের আলোচনায় নেপাল বিষয়টি সামনে এনেছে। সৈয়দপুর থেকে বিরাটনগরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের আকাশপথে চলাচল দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও অনেকটা বাড়াবে।

রেল ও নৌপথে নতুন সম্ভাবনা
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে রোহানপুর-সিংহাবাদ রেলসংযোগ চালুর ফলে নেপালের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, ওই রেললাইন দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে নেপালের বিরাটনগর সরাসরি পৌঁছানো যাবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে যে ইউরিয়া সার কিনেছে, তার একটি অংশ ওই রেললাইন দিয়ে নিয়ে যেতে চায় নেপাল। সোমবার দুই দেশের মধ্যে ওই রুটে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।

কলকাতার হলদিয়া বন্দরের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার ওপর নেপাল এখন বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান নৌ প্রটোকল অনুযায়ী ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে নৌ ও সড়কপথ হয়ে বাংলাদেশের দুই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে চায় নেপাল।

ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত বংশীধর মিশ্র সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, সংযুক্তি বাড়ানোসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে, নতুন উচ্চতায় নেবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন