ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরা স্থলবন্দরে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাতায়াতকারী ট্রাকগুলোর চালক ও সহকারীদের বিশেষ অনুমতির (কার পাস) তথ্য যাচাই করছে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) বিভাগ। দুই সপ্তাহ ধরে সতর্কতা জোরদার করতে ওই তথ্য যাচাই করছে তারা।
আখাউড়া অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানির ট্রাকে করে পুলিশের কালো তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে এমন কেউ পালিয়ে যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করার জন্যই তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করা হচ্ছে।
একই সূত্রে আরও জানা গেছে, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ যাত্রী যাতায়াত করে। এদের পাসপোর্ট, ভিসা যাচাই-বাছাই শেষে ভারতে গমন ও বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় এই বিভাগ। এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে যাদের বিদেশ যাওয়া-আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, কম্পিউটারের বিশেষ সফটওয়্যারে সেই তথ্যও যাচাই করা হয়।
তবে পাসপোর্টধারী এই যাত্রীদের বাইরে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ জন মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে করে ভারতে যাওয়া-আসা করে। এরা ট্রাকচালক ও চালকের সহকারী। শুল্ক বিভাগ থেকে কার পাসের (এক দিনের বিশেষ অনুমতি) মাধ্যমে ট্রাকে করে তারা যাওয়া-আসা করে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, জঙ্গি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ কালো তালিকাভুক্ত ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তির নামের তালিকা রয়েছে আখাউড়া অভিবাসন বিভাগে। এদের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও আটকের নির্দেশ আছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মাইনুদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, অবাঞ্ছিত কোনো লোক যাতে রপ্তানির পণ্যবোঝাই ট্রাকে করে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, এ জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের বিশেষ শাখা এই সতর্ক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অভিবাসন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ আগস্ট আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ট্রানজিটের চাল নিয়ে আখাউড়ায় আসে প্রায় ২০টি কাভার্ড ভ্যান। ওই দিনই চালবোঝাই যানগুলো আগরতলায় যায়। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০১৮৮ নম্বর কাভার্ড ভ্যানের সহকারী চালক আগরতলায় গিয়ে পালিয়ে যান। তাঁর নাম সোহেল মিয়া, বাবা পলাশ মিয়া, গ্রাম চাঁপাই, থানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর—কার পাসে এ তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার দুই দিন পর ওই চালক ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে আখাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। যার নম্বর ৭৬২, ২০ আগস্ট ২০১৪।
আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব উদ্দিন ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ট্রাকচালক ও সহকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগলেও রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়েনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন