default-image

আগরতলায় বাংলাদেশি পণ্যের বেশ কদর। প্লাস্টিক সামগ্রী, সিমেন্ট, পানীয়, জুস, শাড়ি প্রভৃতি পণ্যের প্রতি সেখানকার মানুষের আগ্রহ প্রচুর। আগরতলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ৩৮টি স্টলে প্রতিদিনই ছিল নারী–পুরুষের ভিড়।
গত ২৯ জানুয়ারি ত্রিপুরার আগরতলা হাপানিয়া মাঠে এই মেলা শুরু হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আন্তর্জাতিক এই মেলা। মেলায় চট্টগ্রামের বিএসআরএম, ডায়মন্ড সিমেন্ট ছাড়াও অংশ নিয়েছে পারটেক্স গ্রুপ, আরএফএল প্লাস্টিক এবং জামদানি ও মসলিন শাড়ির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
বেশি ভিড় দেখা গেছে, শাড়ি, আরএফএল প্লাস্টিক ও প্রাণের স্টলে। স্টলে কর্মরত প্রাণের কর্মকর্তা মো. শাহদাত বলেন, ‘এখানে প্রাণের পণ্যের ভালো চাহিদা রয়েছে। আমরা আগরতলায় একটি কারখানাও করেছি। মেলায় প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আমাদের স্টলে ভিড় করছেন।’
বাংলাদেশি শাড়ির প্রতি স্থানীয় নারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। জামদানি ও ঢাকার মসলিন শাড়ির দোকানগুলোতে সব সময় ছিল ভিড়। শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ নিয়েও ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিয়েছেন। প্রিয়া নামে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে জামদানি শাড়ির দোকানে কথা হয়। প্রিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশি শাড়িগুলো খুবই সুন্দর। বিশেষ করে জামদানি শাড়ি লোভনীয়। তবে দাম বেশি। প্রতিবছর মেলা থেকে শাড়ি কিনি।’ একইভাবে প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানেও ছিল ভিড়।
এদিকে বাংলাদেশের সিমেন্ট ও রডের চাহিদা অনেক বেশি বলে জানায় মেলায় অংশ নেওয়া এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো। ডায়মন্ড সিমেন্ট জানুয়ারি থেকে আগরতলায় সিমেন্ট রপ্তানি শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো তারা মেলায় অংশ নিয়েছে। ডায়মন্ড সিমেন্টের ব্যবস্থাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ত্রিপুরায় আমরা মাসে ৮০০ টন সিমেন্ট রপ্তানি করছি প্রাথমিকভাবে। এটা আরও বাড়ানো হবে।’
মেলা উপলক্ষে ডায়মন্ড সিমেন্টের পরিচালক হাকিম আলীও ত্রিপুরায় যান। এ সময় তিনি সেখানকার বাণিজ্যমন্ত্রী তপন চক্রবর্তীর সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের ত্রিপুরায় বাণিজ্য সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে একটি বৈঠক করেন। হাকিম আলী বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক পণ্য এখানে আসছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু ছোটখাটো জটিলতা ও সমস্যা রয়েছে। এগুলো মন্ত্রীর নজরে এনেছি। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন