আগস্টের মাঝামাঝি নতুন রোগী বাড়তে পারে

বিজ্ঞাপন
default-image

শুরু থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ছিল রাজধানী ঢাকায়। ক্রমে সেটা ছড়িয়েছে সারা দেশে। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর তুলনামূলক রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়ে সংক্রমণ অনেক বেশি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরেও মানুষের চলাচল বাড়বে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ঈদের পর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বাইরে নতুন রোগী আরও বাড়তে পারে।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর দুই মাসের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। মূলত মে মাসের শেষের দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সপ্তাহ দুয়েক পর থেকে রাজধানীর বাইরে খুব দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। এ সময় দৈনিক নতুন রোগী শনাক্ত তিন হাজারের ওপরে চলে যায়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ঈদুল ফিতরের পর ২৭ মে পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের ৫৪ শতাংশই ছিল রাজধানীতে। আর বাকি ৪৬ শতাংশ রোগী ছিল ঢাকার বাইরে।

এর দুই মাস পর গতকাল বুধবারের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের ৬৯ শতাংশই রাজধানী ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। এই দুই মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণের কিছু বেশি। আর রাজধানীর বাইরে আক্রান্ত বেড়েছে ১২ গুণ।

২৫ মে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। ওই ঈদে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবু হাজার হাজার মানুষ নানাভাবে ঢাকাসহ বড় বড় শহর ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় গিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে এর প্রভাব স্পষ্ট হয় সংক্রমণের লেখচিত্রে। ২৭ মে থেকে ১৫ জুন—এই ১৮ দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাইরে সারা দেশে আগের তুলনায় ১২৪ শতাংশ আক্রান্ত বেড়েছিল। আর একই সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত বেড়েছিল ৬১ শতাংশ। 

একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি শঙ্কার জায়গা হলো পশুর হাট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। আবার এই ঈদে গত ঈদের মতো যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চেয়ে এবার লোক যাতায়াত বেশি হওয়ার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এই ঈদে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক রোগতত্ত্ববিধ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবারের ঈদের সময়টা সংক্রমণের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক মানুষ গ্রামে যাবে, সাধারণত কোরবানির ঈদে মানুষ বেশি গ্রামে যায়। গরুর হাট বসে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক প্রচারণা প্রয়োজন ছিল। 

>গত ঈদের পর ২৭ মে পর্যন্ত মোট আক্রান্তের ৪৬ শতাংশ ছিল ঢাকার বাইরে
এখন মোট আক্রান্তের ৬৯ শতাংশই ঢাকার বাইরে

সাধারণত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ প্রকাশ পায়। সে হিসাবে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে করোনা সংক্রমণে একটি বড় লাফ দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গত ঈদের পর ঢাকার বাইরে রোগী বেশি বেড়েছে। ঈদকেন্দ্রিক যাতায়াতের কারণে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। এই কোরবানির ঈদের পরপর সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেটা কী পরিমাণ বাড়বে, তা এখনই হয়তো বলা যাচ্ছে না। তবে ঈদের ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ পেতে পারে। 

উপসর্গ জটিল ২.১১ শতাংশের

গতকাল নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা জানান, ১৩ জুন থেকে টেলি হেলথ সেবা দেওয়া হচ্ছে। ১৮ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৯৬৫ জন এই সেবা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ শতাংশ। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ৪ হাজার ৭৪৩ জন সেবা নিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, আক্রান্তদের ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশের উপসর্গ মৃদু। আর ২ দশমিক ১১ শতাংশের অবস্থা অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ১২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৩ হাজার ৯ জনের দেহে সংক্রমণ পাওয়া যায়। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ১৯৪। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৫ জন। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৩ হাজার ৩৫। সুস্থ হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ জন। তিনি কোরবানির ঈদে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন