default-image

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল বুধবার সকালে আগুনে একটি বস্তির অন্তত ৭০টি ঘর পুড়ে গেছে। এতে দগ্ধ হয়ে সজীব শেখ নামে ছয় বছরের এক শিশু মারা গেছে। সে আগারগাঁওয়ের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশে শহীদের টেক বস্তিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাঁশের বেড়ার ওপর টিনের ছাউনিতে গড়ে ওঠা বস্তির একের পর এক ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নেভাতে অংশ নেয়। পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্ট চালিয়ে তারা আগুন নিভিয়ে ফেললেও বস্তির অন্তত ৭০টি ঘর পুড়ে গেছে। এরপর ফায়ার সার্ভিস বস্তির ভেতর থেকে সজীবের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। বস্তির একটি ঘরের রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. জসীম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি জানান, আগুন লাগার পর আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। শুরুতে স্থানীয় লোকজন বালতিতে করে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
সজীব দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ছোট। ঘটনার সময় সজীবের মা আসমা বেগম ও বাবা তুহিন শেখ বস্তির বাইরে ছিলেন। তুহিন শেখ ইট ও বালুর সহ-ঠিকাদার। সজীবের বোন আঁখি আক্তার স্কুলে ছিল। বাসায় ছিল সজীব, তার বড় ভাই হাসিব শেখ ও তাদের নানি আনোয়ারা বেগম।
হাসিব আগারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। হাসিব জানায়, শহীদের টেক বস্তির পাশাপাশি দুটি ঘরে তারা ভাড়া থাকে। ঘটনার সময় সে ও তার নানি একটি কক্ষে ছিল। পাশের কক্ষে ঘুমিয়েছিল সজীব। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে সে দৌড়ে বাইরে যায়। এ সময় বস্তির অপর প্রান্তে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেকে। এরই মধ্যে সে তার ছোট ভাইকে আনার জন্য ঘরের দিকে যেতে থাকলে এক বস্তিবাসী জানায় সজীবকে নিয়ে তার নানি বেরিয়েছেন। একপর্যায়ে তাদের ঘরেও আগুন লেগে যায়। এ কারণে সে আর ওই ঘরের দিকে যেতে পারেনি। খবর পেয়ে তার মা, বাবা ও বোন দ্রুত বস্তিতে ছুটে আসে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিব বলে, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় হয়তো আমার ছোট ভাইয়ের শরীরে আগুন ধরেছিল। এ অবস্থায় সে বাঁচার জন্য কোনোমতে বাইরে এসেছিল। কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে আটকে ছোট্ট দেহটি পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল। কিন্তু ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না।’ এ কথা বলেই হাসিব কান্নায় ভেঙে পড়ে। হাসিব বলে, ‘আমার বই-খাতাও পুড়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে পরীক্ষা দেব।’
ছেলের মৃত্যুর শোকে পাথর বাবা তুহিন শেখ। তিনি বলেন, ‘ঘরের সব পুড়ে গেছে, এতে দুঃখ ছিল না। কিন্তু আমার সন্তানটি পুড়ে কয়লা হয়ে গেল। এ কষ্ট সইব কেমনে।’
সজীবের মা বুক চাপড়ে কেঁদে বলেন, ‘সকালে আমি সজীবকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গিয়েছিলাম। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন