টানা অবরোধ ও হরতালে খুলনা থেকে ১৮টি সড়কপথে চলাচলকারী যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি চলমান অচলাবস্থার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে পরিবহনমালিক-শ্রমিকদের।
খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা বাদে এই ১৮টি পথে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ গাড়ি ছেড়ে যেত। এখন যাচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি।
কারণ জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পরিবহনশ্রমিক ও তাঁদের নেতারা বলেন, যাত্রীসংকট তো আছেই। তা ছাড়া মালিকেরা এই সহিংস পরিস্থিতিতে রাস্তায় গাড়ি নামাতে চান না। এসবের জন্যই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বিকেলে নগরের রয়েল মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার যাত্রী নেই বললেই চলে। সেখানকার কয়েকটি কাউন্টারের কর্মীরা বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা এখন ৫০ শতাংশেরও কম। গাড়ির সংখ্যাও কমে এসেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের হিসাবরক্ষক মো. আলাউদ্দিন শেখ বলেন, আগে প্রতিদিন তাঁদের পরিবহনের অন্তত ২৫টি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেত। এখন সাত-আটটার বেশি যায় না। একই রুটের সোহাগ পরিবহনের বিক্রয়কর্মীও একই তথ্য দিলেন।
খুলনায় ট্রাক চলাচলও প্রায় অচল। বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রহিম বক্স জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন খুলনা অঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩০০টি ট্রাক ছেড়ে যেত, এখন তা এক শর নিচে নেমে এসেছে। পেট্রলবোমা হামলার ভয়ে ট্রাকচালক ও মালিকেরা ঝুঁকি নিতে চান না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন