বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত ও করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা হতে সম্মানী ভাতা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাকিস্তান একটি অকার্যকর দেশ। তাই তারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র করার জন্যই দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে এখনো ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় মাত্র ২১ বছর। অন্যান্য দল ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছে।’

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই নিজের বড় পরিচয় উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমি কোনো মেয়র না, আমি ব্যারিস্টার না, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সেটাই আমার বড় পরিচয়।’

এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নগর ভবনের দরজা সব সময়ের জন্য খোলা থাকবে বলে জানান মেয়র তাপস।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। কিন্তু আমরা এ ষড়যন্ত্রকে শেষ করতে চাই। এই ষড়যন্ত্র বারবার প্রতিহত করতে চাই না। এ জন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারব, দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারব।’

ঢাকা ২ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম। আমরা ৯ মাস সংগ্রাম করেছিলাম। কিন্তু এখনোও একটা শক্তি স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে চায় না।’

ঢাকা-৮ আসনের সাংসদ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এই দেশকে গড়ার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ এখনো আছে। এখনো দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৫ আসনের মনিরুল ইসলাম মনু, ঢাকা-৬ আসনের কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৭ আসনের হাজি সেলিম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাতুল বাকিয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হ‌ুমায়ূন কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী রফিকুল ইসলাম ও দিনাত জাহান মুন্নী সংগীত পরিবেশন করেন এবং নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ নৃত্য প্রদর্শন করেন। এ ছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান, করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় বসবাসকারী ও সম্মানী ভাতা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯৬৬ জন। তার মধ্যে ৫৬ জন মারা গেছেন। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন