default-image

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল সোমবার এদিন ধার্য করে আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আজহারুলের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি-কেস অ্যায়োটিং ভারডিক্ট) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
এটি হবে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় অষ্টম নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর আজহারুল ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আজহার ওই পদে ছিলেন।
এর আগে দুই ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমির গোলাম আযম, মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলার রায় দিয়েছেন। দলটির নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। আরেক নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের অপেক্ষায় আছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসারে একাত্তরে রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালে এ টি এম আজহার জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রংপুর জেলা সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ছিলেন আলবদর বাহিনীর রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির ছিলেন।
২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারুলের বিরুদ্ধে গণহত্যার দুটিসহ হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের ছয়টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন, আসামিপক্ষে কেউ সাক্ষ্য দেননি।
এ পর্যন্ত দুই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি মামলার রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ ছয়টি ও ট্রাইব্যুনাল-২ আটটি মামলার রায় দিয়েছেন। দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও একটি করে মামলার রায় অপেক্ষমাণ আছে।
আজহারের বিরুদ্ধে ছয় অভিযোগ: এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে ছয় অভিযোগের মধ্যে গণহত্যার অভিযোগ দুটি। অভিযোগ গঠনের আদেশ অনুসারে, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল রংপুরের ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় পাকিস্তানি সেনা ও সহযোগী বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে গুলি করে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে। একাত্তরের ৩০ এপ্রিল রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক কালাচান রায়, সুনীল বরণ চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ অধিকারী, চিত্তরঞ্জন রায় ও কালাচান রায়ের স্ত্রী মঞ্জুশ্রী রায়কে বাসা থেকে অপহরণের পর দমদমা সেতুর কাছে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ দুটি ঘটনায় আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়।
বাকি চারটি অভিযোগে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২৪ মার্চ রংপুরের আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের পর ৩ এপ্রিল দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জের ধাপপাড়ায় ১৫ নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ করা হয়। একাত্তরের নভেম্বরের মাঝামাঝি রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় এক ব্যক্তিকে নির্যাতন এবং ১ ডিসেম্বর শহরের বেতপট্টি থেকে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর রংপুর মুসলিম হোস্টেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনায় আজহারুলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন এবং এসব অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন